ঝড়ে ভেঙে পড়া বিয়ানীবাজারের অসহায় নারীর ঘর নির্মাণ করে দিলো ‘স্পন্দন’

প্রকাশিত:শুক্রবার, ২৬ নভে ২০২১ ০৯:১১

ঝড়ে ভেঙে পড়া বিয়ানীবাজারের অসহায় নারীর ঘর নির্মাণ করে দিলো ‘স্পন্দন’

সুরমাভিউ:-  কালবৈশাখী ঝড়ে ঘর ভেঙে পড়েছিল বিয়ানীবাজারের তিলপাড়া ইউনিয়নের কালাইম গ্রামের অসহায় নারী নিলু বেগমের। ঝড়ে ভেঙ্গে যাওয়া ঘরটি মেরামত করার সামর্থ্যও ছিল না স্বামীহারা দুই সন্তানের এই জননীর। পরিবার নিয়ে অনেকটা খোলা আকাশের নিচে তাই মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। নিলু বেগমের এই দূরাবস্থার খবর পেয়ে এগিয়ে আসে তিলপাড়া ইউনিয়নের মানব কল্যাণ সংগঠন ‘স্পন্দন’।

মানবিক সংগঠন স্পন্দনের ঘর নির্মাণ প্রজেক্ট-৩ এর আওতায় এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তানভির আহমদের পরিবারের অর্থায়নে বিধবা নিলু বেগমকে ঘরটি নতুনভাবে মেরামত করে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৩টায় নতুন ঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে উপকারভোগী নিলু বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন স্পন্দনের উপদেষ্টা আমিনুল হক ও ডা. আব্দুস সালাম মুক্তা, সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম সাজু, স্পন্দনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তানভির আহমদ, সদস্য ইমরান হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান ও আবিদুল ইসলাম এমরান। এসময় তারা ওই অসহায় নারীকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তার আশ্বাসও দেন।

ঝড়ের কবলে ক্ষতিগ্রস্থ ঘরটি নতুনভাবে ঘর মেরামত করা পেয়ে খুশি উপকারভোগী নিলু বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার ঘরের ছাউনি ও দেয়াল ছিল না। উপরে জীর্ণশীর্ণ টিনের চাল, বস্তা ও পলিথিনে ঘেরা ছিল চারপাশের বেড়া। দুটো ছেলেমেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিনরাত কাটিয়েছি। এরপর হঠাৎ করে বৈশাখী ঝড়ে আমার জরাজীর্ণ সেই ঘরটি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এমনিতেই অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে, তার উপর ঝড়ে ঘর ভেঙে যাওয়ায় খুব বেশি দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু আমার ঘর ভেঙ্গে যাবার খবর পেয়ে স্পন্দনের সদস্যরা আমার বাড়িতে ছুটে আসেন এবং আমাকে নতুনভাবে ঘরটি মেরামত করে দেবার কথা বলেন। এরপর অল্পদিনেই নতুন টিন দিয়ে আমার ঘরটি মেরামত করে দেন তারা।’ স্পন্দনের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অর্থায়নকারীসহ অন্যদের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করবেন বলেও জানান।

এদিকে, গত এপ্রিল মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙ্গে যাওয়া একই গ্রামের অসহায় তিন সন্তানের জননী নেহারুন নেছার ঘরটিও মেরামত করে দিয়েছিল সংগঠনটি। স্পন্দনের ঘর নির্মাণের প্রজেক্ট-২ এর আওতায় সেই ঘরটি নির্মাণে অর্থায়ন করেছিলেন সংঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মুহিবর রহমান স্বপন। ঘর প্রজেক্ট-৩ এর উপকারভোগী নিলু বেগমের ঘর হস্তান্তর শেষে প্রজেক্ট-২ এর উপকারভোগী নেহারুন নেছার ঘরটিও পরিদর্শন করেন স্পন্দনের দায়িত্বশীলরা। এসময় তারা নেহারুন নেছার পারিবারিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং যেকোন সমস্যায় আগামীতে পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ঘর হস্তান্তর শেষে মানবিক সংগঠন ‘স্পন্দন’ এর উপদেষ্টা আমিনুল হক ও ডা. আব্দুস সালাম মুক্তা বলেন, অসহায় নারী নিলু বেগমের ঘরটি কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাকে নতুনভাবে ঘরটি মেরামত করে দিয়ে বসবাস উপযোগী করে দিতে পেরে আমাদের ভালো লাগছে। তারা বলেন, এ নিয়ে স্পন্দন তিনটি ঘর নির্মাণ প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করেছে। আমাদের এই কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

স্পন্দনের দায়িত্বশীলদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বছর ছয়েক পূর্বে তিলপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কয়েকজন তরুণ সমাজকর্মীর হাত ধরে মানবিক সংগঠন ‘স্পন্দন’ যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ সংগঠনটি তিলপাড়া ইউনিয়নের অস্বচ্ছল পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আর্থসামাজিক ও আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। যেন স্পন্দনের সদস্যরা চেষ্টা করছে অসহায় ও দুঃস্থদের মুখে হাসি ফোটাতে।

‘স্পন্দন’ এই সংগঠনটির বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমের সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইউনিয়নবাসী। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মানবিক সংগঠন ‘স্পন্দন’ তিলপাড়া ইউনিয়নকে বদলে দিতেই কাজ করে যাচ্ছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ