নগরীর মদিনা মার্কেট থেকে ৩৭টি পাখি উদ্ধার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টো ২০২১ ১২:১০

নগরীর মদিনা মার্কেট থেকে ৩৭টি পাখি উদ্ধার

সুরমাভিউ:-  সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকায় ফেরী করে পাখি বিক্রি করছিলেন কয়েকজন। চলছিলো দামদরও। এমন সময় আসল বন বিভাগের অভিযানিক দল। জব্দ করা হলো বিক্রেতার কাছ থেকে চারটি সাদাবক। আটক করা হলো ইয়াহইয়া আহমদ (৩৫) নামের এক বিক্রেতাকে। ঘটনাটি ১৩ অক্টোবর বুধবারের। সময় তখন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা।

তবে অভিযানটি এখানেই থেমে যায়নি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম ঢাকা থেকে আগত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের প্রধান, মোল্লা রেজাউল করিম এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ মৌলভীবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, মোল্লা রেজাউল করিম চৌধুরীকে নিয়ে প্রবেশ করেন গলির ভেতর। সেখানে পাখি কুঞ্জ নামের একটি দোকানে রীতিমত আড়ত করেই খাচার ভেতর বন্দি ছিলো বেশ কয়েকটি কানিবক ও সাদাবক। বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা বকগুলো উদ্ধার করা হয়। কিন্তু দোকান মালিক অভিযানের খবর পেয়েই সটকে পড়েন।

সাড়ে নয়টা থেকে সোয়া ১০টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে মোট ৩৭ টি পাখি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৯টি কানিবক ও ১৮টি সাদা বক। পাখিগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় অবমুক্তের জন্য। যা বৃহস্পতিবার ভোরে পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অবমুক্ত করা হবে।

এদিকে বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, একসময় দিনে বিক্রি হত এসব পাখি। কিন্তু অভিযানের কারণে এখন রাতে বিক্রি করা হয়। এখানে একটি চক্র গড়ে ওঠেছে। কিছুদিন আগেও একজন বিক্রেতার কাছ থেকে পাখি উদ্ধার করে মুক্ত করা হয়েছে। এদেরকে বারবার সতর্ক করার পরও কাজ হচ্ছে না। তাই এখন থেকে কেবল বিক্রেতা না, ক্রেতাদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছি। কারণ ক্রেতারা না কিনলে বিক্রেতারা বিক্রিও করবে না।

অপরদিকে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের প্রধান, মোল্লা রেজাউল করিম এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ মৌলভীবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, মোল্লা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বক কৃষকের বন্ধু। এরা প্রচুর পরিমাণ পোকামাকড় খায়। যার কারণে ফসল উৎপাদন ভালো হয়।

তারা আরও বলেন, বক যখন ধান ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে হাঁটে তখন মাটি নরম হয়। এতে ধানের গোড়ায় বাতাস প্রবাহিত হয়। সেই সাথে ধানে ক্ষতিকর অনেক পোকা আছে যা এই বকগুলো খায়। কিন্তু মানুষ অজানতেই উপকারী এই পাখিগুলো শিকার করে খেয়ে ফেলছে। এতে পরিবেশের যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনই ধানের উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। তাই এরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তাঁরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ