সিলেটের টুকের বাজারে নির্মিতব্য ব্রীজের দু’পাশের সড়ক প্রসস্তকরণের দাবিতে স্মারকলিপি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টে ২০২১ ০৭:০৯

সিলেটের টুকের বাজারে নির্মিতব্য ব্রীজের দু’পাশের সড়ক প্রসস্তকরণের দাবিতে স্মারকলিপি

সুরমাভিউ:-  সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের টুকের বাজারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক নির্মিতব্য ব্রীজ ও তার এ্যপ্রোচ সড়কের কারণে ব্রীজের দুইপাশের দুটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অস্বাভাবিকভাবে সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের চলাচল পড়ছে ঝুঁকির মুখে। আশ^াস দিয়ে ব্রীজের কাজ চলমান থাকলেও বর্তমানে ব্রীজের কাজের রিটেইনিং ওয়াল করার পর দেখা যাচ্ছে পাশর্বর্তী দুটি শতবর্ষী গ্রামীণ রাস্তার প্রস্থ ৯/১০ ফুটে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় এ রাস্তা দিয়ে জরুরী ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়বে। যে কারণে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে বৃহস্পতিবার শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে টুকের বাজারে নির্মিতব্য ব্রীজের এপ্রোচ সড়ক প্রসস্তকরণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। এসময় জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে স্বারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক সার্বিক এ এইচ এম মাহফুজুর রহমান। পরে এর অনুলিপি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়- সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের উত্তর পাশে তিনটি ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ দুটি রাস্তা থাকায় নির্মিতব্য ব্রিজটির প্রথমে সিলেট- সুনামগঞ্জ সড়কের দক্ষিণ দিকে নির্মাণের পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তা পরিবর্তন করে উত্তর দিকে নেয়ায় গ্রামীণ রাস্তাগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী মামলা দায়েরের হুমকি দেয়। এ প্রেক্ষিতে সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আশফাক আহমদের উপস্থিতিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ গ্রামীণ রাস্তা দুটির জন্য অন্তত ১৫/১৮ ফুট জায়গা রেখে ব্রিজ নির্মাণের অঙ্গিকার করেন। কিন্তু ব্রীজের কাজের রিটেইনিং ওয়াল করার পর দেখা যাচ্ছে পাশর্^বর্তী দুটি শতবর্ষী গ্রামীণ রাস্তার প্রস্থ ৯/১০ ফুটে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় এ রাস্তা দিয়ে জরুরী ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়বে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়- ব্রিজের কারণে সংকির্ণ হয়ে পড়া রাস্তা দুটি কান্দিগাঁও ইউনিয়নের নলকট, মোল্লারগাঁও, ফুলকুচি, তিলকপুর, সাদিপুর, নয়াপাড়া, তালুকদার পাড়া, বড় শাহপুর ও শাহপুর খুররম খলা গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিদিন এ দুটি রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি ও শহরে যাতায়াত করেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য শহরে নেয়া হয় এ রাস্তা দিয়ে। গ্রামীণ এ রাস্তা দুটির প্রশস্থতা ঠিক রাখতে দুইদিকে ৪/৫ শতক জায়গা অধিগ্রহণ করে ব্রিজ নির্মাণের অঙ্গিকার করা হলেও কথা রাখেনি সওজ। এছাড়া, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে উক্ত প্রকল্পস্থলে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে স্থানীয় শাহিন নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুও হয়েছে।

এদিকে জনস্বার্থে ভূমি অধিগ্রহণ করে ব্রীজের দু’পাশের দুটি রাস্তা প্রসস্তকরণ অতীব জরুরী জানিয়ে স্থানীয়রা জানান- তা না হলে এলাকাবাসী চরম সমস্যার সম্মুখীন হবেন। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে শাহপুর মসজদি সংলগ্ন মাঠে সর্বস্তরের এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতও হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- টুকের বাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ শহীদ আহমদ, বিশিষ্ট মুরব্বী সাহাব উদ্দিন লাল, ফরিদ মিয়া মেম্বার, মুক্তিযোদ্ধা মনির উদ্দিন, হাজী সিরাজুল ইসলাম, হাজী গিয়াস উদ্দিন, হাজী গোলাম রাব্বানী, ফজলুল করিম ফুল মিয়া, হাজী আব্দুল হক, বজলুল করিম, এখলাছ মিয়া, মালাই মিয়া, আকমল হুসেন, হাজী মুজাহিদ আলী, ওয়াহিদ উদ্দিন মাসুম, জসিম উদ্দীন প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ