গোয়াইনঘাটে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে সংঘবদ্ধ চক্র

প্রকাশিত:শুক্রবার, ০৬ আগ ২০২১ ০৮:০৮

গোয়াইনঘাটে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে সংঘবদ্ধ চক্র

সুরমাভিউ:-  সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার পিয়াইন নদী, লাঠি, জাফলং জিরো পয়েন্ট, বিছনাকান্দি নদী এলাকা থেকে দুই সপ্তাহ ধরে রাতের আধাঁরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র। সরকার ঘোষিত প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এসব এলাকায় জোরপূর্বক ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বড় ধরনের হুমকির মূখে পড়েছে উপজেলার নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো। অত্র এলাকার নদীতে প্রায় ২ হাজারটি বালুবাহী বলগেট নৌকা বর্তমানে অবস্থান করছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন তান্ডব চললেও এ ব্যাপারে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে বলে গ্রামবাসী অভিযোগ করেন।

নদী তীরবর্তী গ্রামবাসীর অভিযোগ- সঙ্গবদ্ধ চক্র রাত ১২টা বাজার সাথে সাথে রাতের আধাঁরে প্রতিটি স্পটে ২০/২৫ টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার বালু লুটপাট করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনকারী প্রতারক সঙ্গবদ্ধ চক্রের কারনে এসব এলাকার পরিবেশকে বিনষ্ট করা হচ্ছে। নদীর তীরে ফাটল ধরেছে। পরিবেশ দূষণ করে বালু উত্তোলনের কারণে নদী তীরবর্তী গ্রাম তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। প্রভাবশালী মহল হওয়ায় তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউই প্রতিবাদ করতে চাচ্ছে না।

ভোক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানান, লাঠি গ্রামের নদীতে লাঠি উত্তর মাইন্জু মিয়ার ছেলে স্বপন ও আরিফ উল্লাহ্র ছেলে সিদ্দেক উল্লাহ্, ফেনাইকুনায় আব্দুল মালিকের ছেলে ফয়েজ উদ্দিন, ইরন মিয়ার ছেলে মইয়ুর আহমদ, বাবুল মেম্বারের ছেলে জাকারিয়া ও কিবরিয়া সংঘটিত হয়ে প্রতি রাতে ২০/২৫ টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।

অভিযোগে জানা যায়, পুলিশ প্রশাসনের কিছু সদস্যকে ম্যানেজ করে এলাকার চিহ্নিত বালুখোকোরা বালু উত্তোলন করছে।

স্থানীয় আহার কান্দি বাজারের পূর্বে শ্রমিকলীগ নেতা নামধারী শাহীন, রুপক ও সুভাষের নেতৃত্বে আহারকান্দি নদীর বীজ্রের পূর্ব সাইডে বাজারের পূর্বে হাবিবুল্লাহর ছেলে আজিম উদ্দিন ও আব্দুল মতিনের ছেলে রমজান আলী, আব্দুল মতিনের ছেলে ফারুক আহমদ এবং পশ্চিম সাইডে আমবাড়ির আহমদ আলীর ৪ ছেলে দেলোয়ার হোসেন, স্বপন আহমদ, খোকন আহমদ ও আবুল হোসেন এবং কিবরিয়া, নুমান, আবদুর নুর প্রতি রাতে ২০/২৫ টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
হাইডরের জহির উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গির আলম, দুয়ারীখেল হাওরের হাসন আলীর ছেলে জুনাব আলী ও হুনা মিয়া, আব্দুল হাসিমের ছেলে মাসুক আহমদ, পশ্চিম জাফলং উনিয়নের ৫,৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডে পিয়ান নদী ও কঞ্চর কাড়া বিএনপি নেতা দেলোয়ারের নেতৃত্বে প্রতি রাতে ২০/২৫ টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিরাতে কোটি কোটি টাকার বালু বিক্রি করা হচ্ছে। তাতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দিনে রাতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি স্পটে ২০/২৫ টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে সংঘবদ্ধ চক্র।

এ ঘটনায় ৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন সতীশ দেবনাথ ঝন্টু।

এ অভিযোগটি জানেন না বলে জানান, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পরিমল দেব। ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ বলে তিনি জানান, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান জানান, রাতের আধাঁরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছেন।

নদী তীরবর্তী গ্রামবাসীরা, রাতের আধাঁরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভাঙনের কবল থেকে তাদের গ্রাম বাঁচাতে প্রশাসনের প্রতি দাবী জানান।

গত ২৯ জুলাই দুপুরে জাফলংয়ের ডাউকি নদীতে গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম নূর হোসেন নির্ঝরের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে জাফলং নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদ পেয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ১২ টি বালুবাহী নৌযানের বালু উত্তোলনের মেশিন ধ্বংস এবং তিনটি বালুবোঝাই নৌকা আটক করেন।

২নং জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার ইউনিয়নের আওতাধীন এলাকায় বালু-পাথর উত্তোলন কেউ করতে পারছে না। তবে পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার আওতাধীন আসাম পাড়া, জিরো পয়েন্ট সহ পিয়াইন নদীর আশপাশ এলাকায় একটি শক্তিশালী সংঘবদ্ধ চক্র প্রভাব বিস্তার করে প্রতিরাতে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার নৌকা ভর্তি করে নদী থেকে শুধু বালু উত্তোলন করছে। এতে প্রশাসনের বৈধ অনুমতি কেউ দেখাতে পারেনি তিনি জানতে পারেন।

গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত দিলীপ দেবনাথের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগটি শুনে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন।