গোয়াইনঘাট সাহিত্য পরিষদের সংবর্ধনা প্রবাসী লেখকরা বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করেন – আবদুল হামিদ মানিক

প্রকাশিত:সোমবার, ৩১ মে ২০২১ ১২:০৫

গোয়াইনঘাট সাহিত্য পরিষদের সংবর্ধনা প্রবাসী লেখকরা বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করেন – আবদুল হামিদ মানিক

সুরমাভিউ:-  গোয়াইনঘাট সাহিত্য পরিষদের সংবর্ধনা ও সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী লেখক ও গবেষক মাওলানা রশীদ আহমদ।

শনিবার সিলেটের সালুটিকর বাজারে নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে লেখক-সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিক ও নানা শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিতিতে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সিলেটের ডাকের নির্বাহী সম্পাদক গবেষক আবদুল হামিদ মানিক।

গোয়াইনঘাট সাহিত্য পরিষদের সভাপতি সম্রাট তারেকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লোকমান হাফিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন দৈনিক জালালাবাদের সহকারী সম্পাদক কবি নিজাম উদ্দিন সালেহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গবেষক আবদুল হামিদ মানিক বলেন, প্রবাসে গিয়ে বাস্তবতার চাপে অনেক সৃজনশীল মানুষ ডলার-পাউন্ডের নীচে হারিয়ে যান। কিন্তু অধম্য স্পৃহা এবং অফুরন্ত দেশপ্রেমের কারণে কিছু মানুষ কখনোই শেকড়ের সঙ্গে বন্ধন ছিন্ন করেন না। তারা অবিরাম বাংলার মুখের দিকে তাকিয়ে সৃজনশীল কর্মতৎপরতা চালিয়ে যান। মাওলানা রশীদ আহমদ তেমনই একজন উদ্যমী লেখক। যিনি প্রবাসে গিয়ে নিজের শেকড়কে ভুলে যাননি। সাহিত্য-সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় নিজেকে সবসময় নিবেদিত রেখেছেন। এমন প্রবাসীরাই বাংলাদেশের মুখ উজ্জল করেন।

তিনি বলেন, আজ যে সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে, একজন যোগ্য ও কর্মতৎপর লেখক ও সমাজসেবক হিসেবে এই সম্মাননা পাওয়া রশীদ আহমদের প্রাপ্ত ছিলো। এই এলাকার যুব ও ছাত্রসমাজের কাছে তাই আজকের দিনটি একটি আলোকবর্তিকা ও প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আরো বলেন, যে জায়গায় গুণীর কদর নেই, সে জায়গায় গুণীর জন্ম হয় না। গোয়াইনঘাট সাহিত্য পরিষদ একজন গুণীকে সম্মাননা জানিয়ে অনাগত ইতিহাসকে জানিয়ে রাখছে, এখানে আরো হাজারো গুণীর আগমন ঘটছে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কবি নিজাম উদ্দিন সালেহ বলেন, মাওলানা রশীদ আমার প্রিয়ভাজন ছাত্রদের অন্যতম। তার মতো বিনয়ী, উদার ও কর্মঠ ছাত্র আমি জীবনে কমই দেখেছি। তিনি আকাশের মতো বড় মন নিয়ে নিজের এলাকায় সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। নিজের জন্য কিছু করার চিন্তা না করে নিজের চিত্ত ও বিত্ত দুস্থ মানুষের জন্য ব্যয় করছেন। এমন একজন মানুষকে সম্মাননা জানানোর অনুষ্ঠানে এসে একজন শিক্ষক হিসেবে আমি সম্মানিত বোধ করছি।

সাংবাদিক মুহাম্মাদ মামুনুর রশীদের তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছড়াকার নজমুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামি চিন্তাবিদ বিশিষ্ট লেখক ফয়সল জালালী, কবি মামুন সুলতান, ৭ নং নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল, দৈনিক সিলেটের ডাকের সাহিত্য সম্পাদক ফায়যুর রাহমান, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মতিন, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনজুর আহমদ, সিলেট বারের আইনজীবী এডভোকেট হাসান আহমদ, লেখক মুফতি মুফিজুর রহমান ও লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিভিল কোর্ট কমিশনার এনামুল হক, কবি শামসীর হারুনুর রশিদ, সাংবাদিক আতিকুর রহমান নগরী, সাংবাদিক আনোয়ার হোসাইন, সাংবাদিক এম.এ রহিম, জালাল সিদ্দিকী, কবি আকরামুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জ সাহিত্য সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মাহমুদ, পাবলিক ইউনিভার্সিটি এসোসিয়েশন অব গোয়াইনঘাটের সভাপতি সদর উদ্দিন, সিলেট শহরস্থ গোয়াইনঘাট ছাত্র পরিষদ সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি বদরুল ইসলাম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আখলাক হুসাইন, গোয়াইনঘাট স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি শামিম আহমদ, গোয়াইনঘাট সাহিত্য পরিষদ কোষাধ্যক্ষ মো. মুছলেহ উদ্দিন মুনাঈম, পাঠাগার ও প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন রশীদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইমরান হোসাইন সেলিম, জামিল আহমদ, আনোয়ারুল হক, মো. মামুনুর রশীদ, আবু সুফিয়ান, রঞ্জন বিশ্বাস, মাহবুব তিবিয়ান, আসাদুল হক,আবুল কালাম, সিদ্দিকুর রহমান তানভীর, সাজু প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ