ইফতেখার হোসেন শামীম তাঁর বিকল্প তিনি নিজেই

প্রকাশিত:বুধবার, ১২ মে ২০২১ ০২:০৫

ইফতেখার হোসেন শামীম তাঁর বিকল্প তিনি নিজেই

এম এ রশিদ আহমদ:- ছাত্রনেতা হিসেবেই যিনি আবির্ভূত।ছিলেন সিলেট জেলা যুবলীগের সভাপতি। তাঁর অপ্রতিরোধ্য সফলতায় জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক করেছিলেন।

তাঁর মেধা সাহসিকতা বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সংগঠনকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন। দলে তাঁর শক্তিশালী ভিত ছিল। প্রয়োজনে দল ও সমাজের দু:সময়ে সঠিক অবস্থান ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। দলের স্বার্থে তিনি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বলয় ভিত্তিক রাজনীতির বাইরেও তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল ঈর্ষনীয়।

সিলেট বিভাগসহ সকল আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা ইফতেখার হোসেন শামীম ছিলেন একজন বড় মাপের নেতা। আপদে-বিপদে কিম্বা বড় সংকটে তিনি কখনও বিচলিত হতেন না। ১/১১ এ সেনা শাসিত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাঁকে গ্রেফতার করা হলে তিনি দীর্ঘদিন কারান্তরিন ছিলেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন একজন সম্মুখ যুদ্ধা তরুণ বীর। অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ইফতেখার হোসেন শামীম ৪ নাম্বার সেক্টরে মেজর আব্দুর রবের অধিনে ছিলেন কোম্পানি কমান্ডার। বিভিন্ন যায়গায় তিনি বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছেন।

তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ স্পষ্টবাদীতা। যাকে যেটা বলার সুদৃঢ় কন্ঠে সামনাসামনি বলে দিতেন। তার বিকল্প তিনি নিজেই।

৭ মে ২০১২। হঠাৎ করে কলকাতার নিউমার্কেট শ্রীলেদার দোকানের সামনে প্রিয় নেতা শামীম ভাইয়ের সাথে দেখা। স্বভাব সুলভ ভঙ্গিমায় জিজ্ঞেস করলেন ‘রশিদ মিয়া কিতা বা’। কত কথাই না হলো। সিলেটের অনেকের কথাই জিজ্ঞেস করেছিলেন আরো বললেন কলকাতায় তাঁকে দেওয়া সংবর্ধনার কথা। কে জানতো এই দেখাই শেষ দেখা।

১৯৪৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া ক্ষনজন্মা ইফতেখার হোসেন শামীম ২০১২ সালের ১১মে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের ছেড়ে চলে যান। বড় অবেলায় চলে গেলেন শামীম ভাই। সিলেটের বর্তমান আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে আপনার শূন্যতা অমরা হাঁরে হাঁরে টের পাচ্ছি।

“এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ
মরণে তা-ই তুমি করে গেলে দান”

পরম শ্রদ্ধাশীল, দেশপ্রেমিক, নিবেদিতপ্রাণ, পরিশুদ্ধ রাজনীতির উজ্জ্বল প্রতীক শামীম ভাইয়ের নবম মৃত্যু বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা।

লেখক : সহ-সভাপতি, সিলেট মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ