সিলেটে করোণা রিপোর্ট নিয়ে ল্যাব টেকনিশিয়ানের দুর্নীতির অভিযোগ!

প্রকাশিত:সোমবার, ২৬ এপ্রি ২০২১ ০৪:০৪

সিলেটে করোণা রিপোর্ট নিয়ে ল্যাব টেকনিশিয়ানের দুর্নীতির অভিযোগ!

সলমান চৌধুরী,বিশেষ প্রতিবেদন,সুরমা ভিউ ।।  সুমন পাল।পেশায় একজন মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রজেক্ট এর বিনোদিনী নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে কাজ করার কথা থাকলেও তিনি কাজ করছেন সীমান্তিক প্যাথলজী ও ডায়গনষ্ঠিক সেন্টারের পিসিআর (কোভিড-১৯) ল্যাবে।

জানা যায়,গত ১১ই এপ্রিল সিলেটের উপশহরস্থ সীমান্তিকের করোণা নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র যান সিলেট নগরীর কুমারপাড়ার বাসিন্দা জামিল আহমদ ও তার দুই বোন। করোনা পরীক্ষা করতে রোগীদের দীর্ঘ লাইন থাকায় এক পর্যায়ে তিনি সুমন পাল নামে এক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান,আজকে ৯৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হবে৷ এ সময় জামিল আহমদের সিরিয়াল ৯৪ জনের পিছনে হওয়ায় তিনি কিছুটা চিন্তায় পড়েন। এ সময় সুমন পাল তাকে আড়ালে নিয়ে বলেন, করোণা পরীক্ষা যদি জরুরী হয় তাহলে অন্য এক সিষ্টেমে তিনি পরীক্ষা করিয়ে দিতে পারবেন অথবা আগামীকাল এসে পরীক্ষা করাতে হবে। এইজন্য জনপ্রতি অতিরিক্ত টাকা গুনতে হবে দেড় হাজার। এতেও রাজি হন জামিল আহমদ

তিন হাজার পাচশত পঞ্চান্ন টাকার করোণা টেষ্ট ফি ছাড়া অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা করে মোট তিনজন বাবদ পনের হাজার একশত পয়শট্টি টাকা দেন হাতে তুলে দেন জামিল আহমদ। লাইন ছাড়াই ভিআইপি সেবা দিয়ে টাকা জমা সহ নিজেই সাথে থেকে নমুনা সংগ্রহ করান সুমন পাল। ঐ দিনই রাত ১০টায় রিপোর্ট অনলাইনে প্রকাশ পাওয়ার কথা থাকলেও কোন রিপোর্ট না পেয়ে পরদিন ১২ এপ্রিল রিপোর্ট জানতে পুনরায় হাজির হন জামিল আহমদ।

সুমন পালকে খোজ করেন তিনি। অফিসের কর্মকর্তারা বলেন সুমন পাল এসে চলে গেছেন।নমুনা পরীক্ষার রশীদ দেখিয়ে করোণার রিপোর্ট চাইলে শুরু হয় তল্লাশী। আবেদন ফরম,নমুনা কিছুই খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কি ব্যাপার?

কোন কিছুই যেন মিল পাচ্ছেন না কর্মকর্তারা। কথা হয় উপস্থিত একজন ডাইরেক্টর হুমায়ুন কবীরের সাথে। তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে রশিদের ফটোকপি রেখে ফিরিয়ে দেন ভোক্তভূগিকে।

অপেক্ষার আরো একদিন। ফলাফল শুন্য। কোনভাবেই কোন কিছু মিলাতে পারছিলেন না কর্মকর্তারা। অথচ তারা জানেন কি হয়েছে সেখানে। এইভাবে অপেক্ষা চলতেই থাকে।

এক পর্যায়ে এক প্রভাবশালী সাবেক ছাত্রলীগের নেতার ফোন যায় ভোক্তভূগির কাছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ না খুলতে অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বিষয়টি সমাধান করে দিবেন বলে আশ্বস্ত করেও গায়েব তিনি। বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় আরো দুইদিন গেল। অপেক্ষা গিয়ে দাড়ালো ৯ দিনে।

অবশেষে উক্ত ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেন আমাদের প্রতিবেদকের কাছে। এরই সূত্র ধরে শুরু হয় গোপন খবর সংগ্রহ। বন্ধুত্ব করেন সীমান্তিকের অফিসের এক কর্মকর্তার সাথে। বেরিয়ে আসে সব অজানা তথ্য। কিভাবে কি হয় এই করোনা টেষ্ট নিয়ে নানা রকম চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন তিনি।

প্রতারণার ব্যাপারে জানতে সুমন পালকে ফোন করা হলে তিনি জানান, তিমি সীমান্তিক প্রতিষ্ঠান চিনেন না। সীমান্তিকের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নাই। অথচ সীমান্তিকের নিয়মিত কর্মকর্তা তিনি। এর যথেষ্ট তথ্য প্রমানাদি রয়েছে প্রতিবেদকের হাতে অবুও তিনি স্বীকার করতে নারাজ।

আরবানের প্রজেক্ট ম্যানেজার পারভেজ আলমকে এই ব্যাপারে জানতে তার মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এই ব্যাপারে সীমান্তিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদের সাথে দেখা করেন প্রতিবেদক,এই সময় সুমন পালের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান সুমন পাল তার একজন ষ্টাফ। তিনি ২০০০০-২৫০০০ টাকা বেতনে চাকুরী করছেন সীমান্তিকের করোণা পিসিআর ল্যাবে। অথচ বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন সুমন পাল। শামীম আহমদ আরো জানান,আরবান এবং সীমান্তিক একই প্রজেক্ট। তিনি কোথায় কোন ষ্টাফকে ডিউটি করাবেন সেইটা তার ব্যাপার।

এই ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সুমন পাল সিসিকের অন্তর্ভুক্ত আরবারের একজন ল্যাব টেকনোলজিষ্ট। তিনি সরকারী ল্যাব (আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স) এর ল্যাবে প্রয়োজনে কাজ করার অনুমতি রয়েছে তবে সীমান্তিক সম্পূর্ণ প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান সেইখানে কাজ করার কোন অনুমতি তার নেই। তিনি আরো জানান,সিসিকের সাথে সীমান্তিকের কোন সংশ্লিষ্টতা নাই।

উল্লেখ্য যে,সুমন পাল বিনোদিনী থেকে মাসিক বেতন পান চৌদ্দ হাজার এবং সীমান্তিক পিসিআর ল্যাব থেকে পচিশ হাজার টাকা। তাছাড়া করোণা টেষ্টে ভিআইপি সার্ভিসের নামে মানুষদের কাছ থেকে এবং বিদেশগামী গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে প্রতি মাসে অবৈধ ইনকাম করেন প্রায় দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে তার মাসিক ইনকাম গিয়ে দাড়াচ্ছে আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা।