বেল্ট স্থাপনে নষ্ট হচ্ছে সড়ক চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনা

প্রকাশিত:বুধবার, ২১ এপ্রি ২০২১ ০৬:০৪

বেল্ট স্থাপনে নষ্ট হচ্ছে সড়ক চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:-  সুরমা নদীরপাড়ে ডাম্পিং করা বালু-পাথর যানবাহনে লোড করতে বেল্ট স্থাপন করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিনাশ ঘটেছে। সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের রাজারগাঁও ও সুরমা ইউনিয়নের সদরগড় এলাকায় মাটি কেটে বেল্ট স্থাপন করায় সড়কের ক্ষতি হচ্ছে এমন কথা জানান স্থানীয়রা।

নদীর তীরের স্তুপকৃত বালু পাথর স্টিলবডি, ভলগেট, কার্গোতে সহজে লোড করতে নদীর তীরে জন চলাচল সড়ক কেটে বেল্ট স্থাপন করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী। এই কারণে সড়কে যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।
গৌরারং ইউনিয়নের রাধানগর পয়েন্ট থেকে যানবাহন ও জন চলাচলের মাটির বাইপাস সড়ক রয়েছে। এই সড়ক দিয়ে অচিন্তপুর, রাজারগাঁও এবং সুরমা ইউনিয়নের সদরগড়ের অলির বাজার পর্যন্ত মানুষ ও যান চলাচল করে থাকে। বিভিন্ন স্থানের সবজি ব্যবসায়ীরা অলির বাজারে আসেন এই বাইপাস সড়ক দিয়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গৌরারং ইউনিয়নের রাজারগাঁও এবং সুরমা ইউনিয়নের সদরগড় ও অলির বাজার পর্যন্ত মাটির সড়ক কেটে বেল্ট স্থাপন করে চলেছেন বালু-পাথর ব্যবসায়ীরা। নদীর তীরের ডাম্পিং করা বালু-পাথর সহজে কার্গো ও স্টিল বডিতে লোড করতে জন চলাচল সড়ক কেটে বেল্ট স্থাপন করেছেন তারা। বৃষ্টিতে সড়ক গলে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এই সড়কে যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে। প্রতিদিন একাধিক দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা।

রাধানগর পয়েন্ট থেকে আসা পথচারী ইব্রাহীম আলী জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ফুল মিয়া বিগত সময়ে এই সড়কে মাটি ফেলে সংস্কার কাজ করেছিলেন। সড়কটি প্রশস্ত হয়েছে। মানুষ ও যান চলাচলে বেশ সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন অলির বাজারে হাজারো মানুষ ও মালবাহী যানবাহন আসা যাওয়া করে। এখন বালু পাথরের একাধিক ব্যবসায়ী বেল্ট স্থাপন করায় সড়কের বিনাশ ঘটেছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, রবিবার বিকাল ২ টায় সড়ক কেটে বেল্ট স্থাপন করায় শহরের মাইজবাড়ি গ্রামের আশিকুর রহমানের অটোরিকশা দুর্ঘটনায় পড়ে। সড়কে বেল্ট স্থাপনের কারণে মালামালসহ অটোরিকশা নদীতে গড়িয়ে পড়ে। এই বেল্ট স্থাপন করেছেন তাহিরপুরের ব্যবসায়ী খসরু মিয়া। গাড়ি চালক আশিকুর রহমান জানান, সড়কের মুচিবাড়ি এলাকায় বেল্টের কাছে কাটা সড়কে তার গাড়ির দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তবে ব্যবসায়ী খসরু মিয়া বলেছেন, অটোরিকশা আমার বেল্টে লাগেনি। বেল্ট স্থাপনের কাছে গড়িয়ে পড়েছে নদীতে। জন চলাচল সড়ক কেটে বেল্ট স্থাপন করেছেন স্বীকার করে তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফুল মিয়াকে বলে সড়ক কেটে বেল্ট স্থাপন করেছি। কিন্তু ফুল মিয়া তা অস্বীকার করে বলেছেন, এমন অন্যায় কাজের অনুমতি আমি দেইনি। দিতে পারি না।

স্থানীয় বাসিন্দা তানভীর আহমদ বলেন, এই সড়ক এলাকার অতি সহজ এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। সড়কে মাটি ফেলে সংস্কার কাজ করেছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফুল মিয়া। সড়কে মানুষ ও যান চলাচল করে আসছে। এই জনচলাচল সড়ককে ব্যক্তি স্বার্থে নানাভাবে ব্যবহার করছেন এক শ্রেণীর মানুষ। এতে সড়কের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
গৌরারং ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফুল মিয়া বলেন, এলাকার মানুষের অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রাধানগর থেকে অলির বাজার। এই সড়কের আমি যথাযথ উন্নয়ন করব। সড়কের কেউ ক্ষতি করলে তাও গুরুত্ব সহকারে দেখবো।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ