ছাতকে হেফাজতের মিছিল থেকে হামলা-ভাঙচুর: আটক ৯, ৫ পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক

প্রকাশিত:রবিবার, ০৪ এপ্রি ২০২১ ০৭:০৪

ছাতকে হেফাজতের মিছিল থেকে হামলা-ভাঙচুর: আটক ৯, ৫ পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক

ছাতক প্রতিনিধি:-  হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মামুনুল হককে স্ত্রীসহ আটক করার খবরে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামগঞ্জের ছাতকে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ থেকে ১০ টা পর্যন্ত  মিছিলে মিছিলে উত্তাল ছিলো ছাতক শহর। মিছিলে অংশ নেন মাদরাসার শিক্ষক- ছাত্র পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ভক্ত অনুসারী ও  হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা । সন্ধ্যায়  প্রায় ১০০  শ ছাত্র-শিক্ষক মিছিলে বের হলে পরে শরীক হন অসংখ্য লোক।

এসময় তারা ‘শাহজালালের তলোয়ার- গর্জে উঠুক আরেকবার’‘হেফাজত বিরোধীদের বিরুদ্ধে- এক্যাশন, এক্যাশন, ডাইরেক্ট এক্যাশন’ ‘মামুনুল হকের কিছু হলে- জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’! বলে গগণবিদারী শ্লোগান দেন তারা।

মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ দৌড়ে কালিবাড়ি রোড, এস.এম চৌধুরী ভবনের দোকেনে  আশ্রয় নিলে, দোকানপাটে হামলাও ভাংচুর চালায়।

পরে তারা ছাতক থানায় ইট-পাথর ছুড়লে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪০ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজিম উদ্দিন ডেইলি  ছাতকে জানান, মিছিলাকারীরা পুলিশের ৫ সদস্যের ওপর হামলা করে। তারা মিছিল শেষে সুরমা নদীর পাড় হয়ে যাওয়ার সময় থানা ভবনে ইট নিক্ষেপ করে।

এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪০ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। তারা থানা ভবনের সেবা চত্বরের গোলঘর ভেঙে ফেলে।   এদিকে নোয়ারাই বাজার, গনেশপুর মাদরাসা বাজার, জাউয়া বাজার ও হাসনাবাদ এলাকায় মাও. মামুনুল হকের সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
এ ঘটনায় ৯  জনকে আটক করেছে পুলিশ। ছাতক শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের ৫ জন সদস্য আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্য রাকিব উদ্দিন, সাইদুল ইসলাম, দিলশাদ মিয়া, রবিউল আলম, সুবল দাস, রাকিব গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হেফাজতকর্মী ও পথচারী সহ অন্তত ৫০ জন  আহত হয়েছেন।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে নারীসহ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় শনিবার (৩ এপ্রিল) এক রিসোটে হেনেস্তার অভিযোগ উঠে।

এরপর তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় হেফাজতের কর্মীরা। তার সাথে ছিলেন ২য় স্ত্রী আমেনা। স্ত্রীসহ তাকে পাওয়ার পর বিব্রতকর নানা প্রশ্নবানে জর্জরিত করা হয়।

একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ে আপত্তিকর এহেন প্রশ্ন্ও অস্বাভাবিক মানসিকতার জন্ম দিয়েছে, বলে মনে করেন হেফাজত সমর্থকরা। অপরদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ।

এ সময় ওই রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা।  এতে রিসোর্টের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন সোনারগাঁওয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম, এসিল্যান্ড গোলাম মোস্তফা মুন্না, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টি আই মোশাররফ হোসেন, সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) তবিদুর রহমানসহ অর্ধশতাধিক সাংবাদিক।

এক পর্যায়ে মাওলানা মামুনুল হককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বিক্ষুব্ধ হেফাজত কর্মীরা। এর আগে বিকেল থেকে মাওলানা মামুনুল হককে ওই রিসোর্টে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা।

তবে সেই স্থানীয় সরকার দলের কর্মী সমর্থক নেতা। এরপর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশসহ সাংবাদিককরা। সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে এক নারী সহ মামুনুল হককে আটক করে স্থানীয় জনগণ।

মামুনুল হকের দাবি, সঙ্গে থাকা নারী তার ২য় স্ত্রী আমিনা তৈয়ব। আমিনাকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্টে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ