২৫ শে মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস দাবিতে মানববন্ধন ও মোমবাতি প্রজ্জবলন কর্মসুচি পালন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ ২০২১ ০৭:০৩

২৫ শে মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস দাবিতে মানববন্ধন ও মোমবাতি প্রজ্জবলন কর্মসুচি পালন

সুরমাভিউ:-  ২৫ শে মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস এবং পাকিস্তান রাষ্টীয় ভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও মোমবাতি প্রজ্জবলন কর্মসুচি পালন করেছে সামাজিক সংগঠন “ওয়ান বাংলাদেশ” এর নেতৃবৃন্দ। আজ বিকেল ৫ টায় সিলেট বুদ্ধিজীবি গোরস্থানের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়।

‘ওয়ান বাংলাদেশ’ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর ড. নির্মল চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ সাহা’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন,”২৫ শে মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি এবং একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে রাষ্ট্রীয় ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।

বক্তরা বলেন, এটা পরিকল্পিত গণহত্যা। পাকিস্তানী প্রেতআতœার ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের উপর, বাঙ্গালী জাতীর উপর বৈশ্যম্য সৃষ্টি করে এরই ধারাবাহিকতায় তাদের দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৫ মার্চ রাতে এই জঘণ্য হত্যকান্ড লুটপাট, ধর্ষণ, অগ্নি সংযোগ ও জাতিগত নিধণ চালানো হয়েছে। তাদের এই হত্যাকান্ড আন্তর্জাতীক অপরাধ।

বক্তারা আরো বলেন,২৫ শে মার্চ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাদের বর্বরতা প্রদর্শন করে নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাংলাদেশীদের নির্বিচারে হত্যা করেছিল। ছাত্র, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ, দিনমজুর এমনকি রিকশা চালকরাও তাদের অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি। এই জঘন্য হত্যাকান্ডর মধ্যে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাস, পুলিশ সদর দফতর, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশের বস্তি অঞ্চলে হামলার অন্তভ’ক্ত ছিল। এই আক্রমণটির মূল লক্ষ্য ছিল পরবর্তী প্রজন্মকে সারাজীবন দাসত্ব করার জন্য গণহত্যা ও সন্ত্রাসবাদ ব্যবহার করা।

অষ্ট্রেলিয়ান “সিডনি মর্নিং হেরাল্ড” এর মতে, ২৫ শে মার্চ বাংলাদেশে প্রায় এক লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা হিসাবে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব ইতিহাসে এমন কোন দিন আসেনি যে যুদ্ধের ঘোষণা ছাড়াই এত নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং এত সংখ্যক নারী ধর্ষীত হযেছে।

পাকিস্তানী বাহিনী সেই রাতে দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, সাপ্তাহিক গণোবাংলা এবং ডেইলি পিপলদের অফিস ধ্বংস করে দেয় জঘন্য “অপারেশন সার্চলাইট” গণহত্যার পরে, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের অনেক বুদ্ধিজীবী এবং বিশিষ্ট শিক্ষককে হত্যা করেছিল। অধ্যাপক ফজলুর রহমান খান, অধ্যাপক ড.এএন.এম. মনিরু জ্জামান, অধ্যাপক এম এ মুক্তাদির, ডাঃ গোবিন্দ চন্দ্র দেব, অধ্যাপক এ আর খান খাদিম এবং অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা একই রাতে শহীদ হন
সেই ভয়াবহ হত্যার নজিরবিহীন ঘটনার নিন্দা করে সারা বিশ্বের মানুষ। সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা এই জাতীয় গণহত্যাকে যে কোনও পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

সে কারণেই, বাংলাদেশের সকল বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও যুবকদের সমন্বয় গঠিত ওযান বাংলাদেশ, ২৫ শে মার্চকে আন্তর্জাতিক জ গণহত্যা দিবস হিসাবে মনোনীত করার স্বীকৃতি দাবি করছে। একই সাথে, সারা দেশ থেকে ওয়ান বাংলাদেশের সাথে যুক্ত কর্মকর্তারা চাইছেন যে অভূতপূর্ব গণহত্যার কথা স্বীকার করে পাকিস্তান রাষ্টীয় ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।

সহ সভাপতি মোঃ তৌফিকুল আলম বাবলু, এড. শাহ শাহাদত আলী শাকী, কোষাধ্যাক্ষ সৈয়দ মোশারফ আলী তুহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. অনিমেষ সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রেদওয়ান আহমদ ও ইমরান আহমদ চৌধুরী, শিক্ষা ও গবেষনা সম্পাদক ড. বিশ^জিৎ দেবনাথ, মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মাকছুদার রহমান, যুগ্ম মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফাহমিদা জাহান ফাহিম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পারভেজ আহমদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক আলী হাসান রুমেল, যুগ্ম তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক মোঃ মামুনুর রশিদ, মফিজুর রহমান, আলী আজম রাজু, ও মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ আশরাফুল আলম নাসির, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ড. তরিকুল ইসলাম, যুগ্ম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার অজয় বালা, সমাজ সেবা সম্পাদক ডাঃ ফুজায়েল আহমদ দপ্তর সম্পাদক জয় সঙ্কর বৈদ্য, সদস্য প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, প্রফেসর ড. মোঃ মনিরুল ইসলাম সোহাগ, ড. ফখর উদ্দিন, মোঃ মাহমুদুল হক, কাজী রাবেয়া আক্তারপারভেজ, রেদওয়ান, ইমরান।প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ