বিশ্বনাথে বাউসী-কাশিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিবাদ সভা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ ২০২১ ০৯:০৩

বিশ্বনাথে বাউসী-কাশিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিবাদ সভা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:-  প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে চার তলা বিশিস্ট নতুন একাডেমিক ভবন নির্মানের জন্য নির্ধারিত স্থানে থাকা গাছকাটা থেকে শুরু করে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাউসী-কাশিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত অপপ্রচারের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীর ব্যানারে প্রতিবাদ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজন সরকার। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসলিটিজ ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে আসা ৪তলা ভবনের লে-আউট করার জন্য গত ২৫ ফেব্রুয়ারী সিলেট থেকে সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদার আসেন। তবে ভবন নির্মাণের নির্ধারিত স্থানে কিছু গাছ, একটি পুরাতন ভবন ও একটি শ্রেণী কক্ষ পরে। জায়গা খালি না থাকায় ভবনের লে-আউট করা সম্ভব হয়নি। কাজ শুরুর জন্য তাই উনারা যত দ্রæত সম্ভব জায়গা খালি করে দেওয়ার কথা বলেন। সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে বিধায় দ্রæত কাজ শুরু করতে হবে। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে ঐ দিনই (২৫ ফেব্রুয়ারী) অনুষ্ঠিত ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নতুন ভবন নির্মানের স্থানে থাকা ছোট ও মাঝারী আকারের ১৩টি গাছ স্থানীয়ভাবে বিক্রি করার ও পুরাতণ ভবন প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করার জন্য একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারী স্থানীয়ভাবে নগদ ৩০ হাজার টাকা মূল্যে গাছগুলো বিক্রি করে ঐদিনই স্থানীয় পীরেরবাজারস্থ সোনালী ব্যাংকে থাকা বিদ্যালয়ের নামীয় একাউন্টে জমা রাখা হয় এবং ১-৪ মার্চ গাছগুলো কাটা হয়। ৬ মার্চ পুরাতন ভবন নিলামের পর প্রাপ্ত ২১ হাজার টাকাও ঐদিনই ব্যাংকে জমা রাখা হয়। সকল বিধি অনুসরণ করে শতভাগ সচ্ছতার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থের জন্য গাছগুলো বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকা বিদ্যালয়ের একাউন্টে রাখার পরও একটি কুচক্রীমহল গাছগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে মর্মে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অথচ গাছ বিক্রি করার সকল বৈধ কাগজপত্র (টাকা জমার রশিদ ও রেজুলেশন) বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত আছে। যে কেই যে কোন সময় তা যাচাই-বাচাই করতে পারেন। সেই অভিযোগের তদন্ত চলাকালে তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে বিক্রি করা গাছের সকল বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। এমনকি তদন্ত কাজ চলাকালে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে উপস্থিত সকলের সামনে মোবাইলে অভিযোগকারীকে বিদ্যালয়ে এসে তদন্তে সহযোগীতা করার কথা বলেন। তখন সেই অভিযোগকারী তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানান তিনি এ অভিযোগ দেননি, তাই কোন সহযোগীতাও করতে পারবেন না। এতেই প্রমাণ হয় অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত।

এরপরও বিদ্যালয়কে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার অব্যাহত রয়েছে। যা অত্যান্ত দুঃখজনক। বিদ্যালয়ের চলমান এডহক কমিটির মেয়াদ গত ১৩ মার্চ শেষ হওয়ায় দ্বিতীয় মেয়াদে এডহক কমিটি করার জন্য ১৮ মার্চ বোর্ড হতে অনুমতি পেয়ে অভিভাবক সদস্য মনোনয়নের জন্য ২১ মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যলয়ে গিয়ে জানতে পারলাম ‘নিজেদের স্বার্থে এলাকাবাসীকে না জানিয়ে বাউসী-কাশিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে’ মর্মে আরেকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অথচ এডহক কমিটি গঠনের কার্যক্রম সবেমাত্র শুরু করা হয়েছে। এতো মিথ্যাচার কার স্বার্থে আর কারাইবা করছে। এমন মিথ্যা অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয় কিভাবে চলবে। বিদ্যালয়ের সুনাম যেনো সর্বদা অক্ষুন্ন থাকে সেই ব্যবস্থা সবার পূর্বে বহাল রাখতে হবে।

এলাকার প্রবীন মুরব্বী আতাউর রহমান ছইল মিয়ার সভাপতিত্বে ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুর রহিমের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক জসিম উদ্দিন, এমদাদুর রহমান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য আলা উদ্দিন খান, আফিক মিয়া, মুজাম্মিল হক কাছা মিয়া, প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ মহসিনুর রহমান, শেখ জাহাঙ্গীর, আলী আকবর জাহেদ, আতিকুর রহমান প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ