গোলাপগঞ্জের গৃহবধূ রুহেনা হত্যা মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিতে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ ২০২১ ০৯:০৩

গোলাপগঞ্জের গৃহবধূ রুহেনা হত্যা মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিতে

সুরমাভিউ:-  গোলাপগঞ্জে আলোচিত দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ রুহেনা আক্তার (২৭) হত্যা মামলাটি পুনঃতদন্তের পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাদী পক্ষের করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৮ মার্চ মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিতে হস্তান্তর এবং আগামী ৮ জুনের মধ্যে পুনঃতদন্তেরর প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ মামলাটির পুনঃতদন্তের আবেদন জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী। তিনি আবেদনের পক্ষে শুনানিতে বলেন, এই হত্যা মামলা সঠিকভাবে তদন্ত হয়নি। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদী পক্ষের কারো কোন বক্তব্য না নিয়ে শুধুমাত্র আসামি পক্ষের লোকজনের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে একটি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন। সঠিকভাবে তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনসহ ওই সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা যেত। তাদের সাক্ষ্য-প্রমানে মামলাটি সঠিকভাবে প্রমাণ করা সম্ভব। পরে এদিন বিকেলে বাদীপক্ষের আইনজীবীর এই আবেদনটি মঞ্জুর করে আদালত সিআইডিকে পুনঃতদন্ত করে আগামী ৮ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেন।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পূলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত গৃহবধূ রুহেনা আক্তারের ভাই ফয়ছল আহমদ বাদী হয়ে তিনজনকে আসামী গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (জিআর মামলা নং ২৯/২০১৯) দায়ের করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন থানার এসআই মামুন। মামলা দায়েরের পর শুধুমাত্র প্রধান আসামি ফখরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে প্রধান আসামিসহ ৩জনই জামিনে রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিহত রুহেনা আক্তার গোলাপগঞ্জে ভাদেশ্বর ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের আজাদ আহমদের স্ত্রী। ২০১৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গৃহবধূ রুহেনা আক্তারকে পিটিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় বসতঘরের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে ওই গৃহবধূর শ্বাশুড়ি বৈতরূন বেগম, দেবর ফখরুল ইসলাম ও আনহার আহমদ এবং ভাসুরের ছেলে আজিজুর রহমান। পরে খবর পেয়ে রুহেনা আক্তারের স্বজনরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে সিলেটের ইবনেসিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন নির্যাতনকারীরা। পরে ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় রুহেনার স্বজনদের না জানিয়ে লাশ দাফনের চেষ্টা করলে নিহতের ভাই ফয়ছল আহমদ গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন এবং অভিযোগ পেয়ে পুলিশ স্বামীর বাড়ি থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

নিহত গৃহবধূ রুহেনা আক্তারের ভাই ফয়ছল আহমদ বলেন, আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে তার দুই দেবর ও ভাসুর পুত্র মিলে হত্যা করেছে। এই হত্যা মামলার একজন আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও সে জামিনে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মামুন আমাদের (বাদীপক্ষ) বক্তব্য না নিয়েই একতরফাভাবে মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে আদালতে দাখিল করেছেন। আমরা গরিব বলে কি বোন হত্যার বিচার পাব না? তিনি বলেন, মামলাটি এখন সিআইডিতে গেছে। সিআইডি পুনঃতদন্তের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করবে বলে আমরা আশাবাদী।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ