শনিবার (২০ মার্চ) দিবাগত রাত তিনটার দিকে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. খালেদ উজ জামান।

তিনি জানান, নোয়াগাঁও গ্রামে হামলায় মূল আসামি শহীদুল ইসলাম স্বাধীনকে কুলাউড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে।এদিকে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ২২ আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা সাতটায় গ্রেপ্তারকৃত ২২ আসামিকে বেগম ইসরাত জাহানের আদালতে হাজির করা হলে আদালত সবার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. সেলিম নেওয়াজ।এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ওই ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে নোয়াগাঁও গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনার দুদিন পর বৃহস্পতিবার শাল্লা থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

তবে গত বুধবার (১৭ মার্চ) সকালের দিকে হামলার ঘটনা ঘটলেও এই হামলায় কে বা কারা নেতৃত্ব দিয়েছে অথবা মূল ইন্ধন দাতা কে এই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আল্লামা মামুনুল হকসহ হেফাজত নেতাদের নিয়ে ফেসবুকে বিরূপ মন্তব্য করে ঝুমন দাশ নামের এক যুবক। তার বিরূপ মন্তব্য নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে নোয়াগাও গ্রামের কয়েকজন হিন্দু লোকের সহায়তায় শাসকাই বাজার থেকে তাকে পুলিশে তুলে দেওয়া হয়।

ঝুমনকে আটক করা হলেও এর পরদিন সকাল ৮ টায় দিরাই উপজেলার কয়েকটি গ্রাম থেকে মামুনুল হকের অনুসারি কয়েকশ যুবক, কিশোর লাঠিসোটা নিয়ে নোয়াগাঁও এর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় তারা ঘরে থাকা পারিবারিক মূর্তিসহ ভাঙচুর চালায় এবং সম্পদের ক্ষতি করে।