পুরান কমিটির দাপটে নতুন কমিটি বিপাকে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১ ১১:০৩

পুরান কমিটির দাপটে নতুন কমিটি বিপাকে

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:-  সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মিশুক ও টেক্সীকার ড্রাইভার্স ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্রঃ-১৯২৬ এর অন্তর্ভুক্ত জগন্নাথপুর শিবগঞ্জ রোডের হেলিপ্যড নামক স্ট্যন্ডে চালকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

যে কোনো সময় বড় ধরনের দাঙ্গা হাঙ্গামার আশংকায় ভোগছেন সিএনজি চালকরা।

জানা যায়,গত ২০১৭ ইং সনের জানুয়ারি মাসে জগন্নাথপুর হেলিপ্যড শাখা ২ বছর মেয়াদী কমিটি গঠন করা হয়।

মেয়াদ শেষ হওয়াতে শ্রমিকদেরকে হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে না দেওয়ায় এবং নিয়ম মাফিক পুরাতন কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কমিটি না দিয়ে পুরান কমিটির সভাপতি মোঃ মুকিদ মিয়া ও সহ সভাপতি মিন্টু মিয়াও সহ সম্পাদক আল- মুমিন গং রা চালকদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করতেছে ও রশিদ বই ভোঁয়া বানিয়ে চালকদের কাছে থেকে লক্ষ লক্ষ হাতিয়ে নিচ্ছে এই গং বাহিনীবলে অভিযোগ উঠেছে।

আব্দুল মুকিদের বিরুদ্ধে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইং তারিখে উক্ত শাখার ৩৯ জন সিএনজি চালক কর্তৃক সাক্ষরিত উপ- পরিচারক, আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর, শাহজালাল উপশহর, সিলেট বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

চালকগণ মোঃ মুকিদ মিয়ার বিভিন্ন হয়রানী মুলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
চালক গন নতুন কমিটি গঠনের লক্ষে বার বার উদ্যোগ নিলেও পুরাতন কমিটির সভাপতি মোঃ মুকিদ মিয়া বিভিন্ন টাল-বাহানাক্রমে সময় ক্ষেপন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,সুনামগঞ্জে নতুন জেলা কমিটি না থাকায় তারা মোঃ মছন মিয়াকে প্রধান করে একটি এডহক কমিটি গঠন করেছিলেন।কিন্তু উক্ত এডহক কমিটির প্রধান মোঃ মছন মিয়া ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ইং তারিখে উপ- পরিচালক আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তর বরাবরে লিখিত ভাবে পদত্যাগ পত্র জমা দেন।

জগন্নাথপুর – শিবগঞ্জ – ফেছি লাইনের হেলিপ্যড সিএনজি শাখার কমিটি বিহিন জটিলতা নিরসনকল্পে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ইং তারিখের অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মিশুক ও টেক্সীকার ড্রাইভার্স ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্রঃ-১৯২৬ এর
কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেনের স্বাক্ষরিত মোঃ অলি মিয়াকে সভাপতি ও মোঃ কাউছার আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু পুরান কমিটি দাপট দেখিয়ে এই শাখার দায়িত্ব না ছারার কারনে নতুন কমিটি বিপাকে পরেছেন।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোঃ অলি মিয়া বলেন, পুরাতন কমিটির মেয়াদ, শেষ হলেও তারা অবৈধ ভাবে রশিদ বহি ছাপিয়ে চালকদের নিকট হতে চাঁদা আদায় করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
এ সময় তিনি বৈধ ভাবে লাইন পরিচালনা সহ নতুন কমিটির নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর ও পুর্বের হিসাব প্রদানের জোর দাবি জানান।

নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাউছার আহমদ বলেন, পুরান কমিটির লোকজন দাপটের সাথে অবৈধ ভাবে চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে পুরোদমে চাঁদা বাজি চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন জেলা আমাদেরকে রশিদ বই প্রদান করলেও পুরাতন কমিটি ভুঁয়া রশিদের মাধ্যমে চালকদের নিকট থেকে নিয়মিত চাঁদার টাকা আদায় করছে।

৮মার্চ ২০২১ ইং তারিখ সরজমিন শিবগঞ্জ রোডস্থ হেলিপ্যড সিএনজি শাখায় গিয়ে ম্যনেজার সুয়েব আহমদ জানান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও পুরান কমিটির মাধ্যমে শাখার কাজ চলছে।

এব্যপারে কোষাধ্যক্ষ সাজ্জাদ আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি শুধু নামেই কোষাধ্যক্ষ। আমার সকল প্রকার দায়িত্ব সভাপতি মুকিদ মিয়া ও সহ সভাপতি মিন্টু মিয়া চীজ করে রেখেছে।

এই বিষয়ে পুরান কমিটির সভাপতি মুকিদ মিয়া জানান আমাদের পুরান কমিটির মেয়াদ শেষ কিন্তু জেলারও কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়াতে আমরা রশিদ বই জেলা থেকে আনতে পারিনা তাই আমরা নিজেরাই নতুন বই ছাপিয়েছি। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাদেরকে নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে এই কমিটি ভুঁয়া। সুনামগঞ্জের কামাল নামের একজন যে কমিটি দিয়েছে তাকে আমরা চিনিনা।

এই বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মিশুক ও টেক্সীকার ড্রাইভার্স ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্রঃ-১৯২৬ এর সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, জগন্নাথপুর শিবগঞ্জ রোডস্থ সিএনজি শাখার আগের কমিটির অনেক আগেই মেয়াদ শেষ, আমরা অলিকে সভাপতি ও কাউছার আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি দিয়েছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ