সিলেটে আমেরিকান কন্যা মৌসুমীর দাবি বিয়ের রাতেই ধরা পড়ে জাকের অসুস্থ

প্রকাশিত:শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১ ১২:০৩

সিলেটে আমেরিকান কন্যা মৌসুমীর দাবি বিয়ের রাতেই ধরা পড়ে জাকের অসুস্থ

ওয়েছ খছরু।।

জাকেরের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন আমেরিকা প্রবাসী শারমিন সুরভী মৌসুমী। থানায় মামলা দায়েরের পর গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তিনি আমেরিকা থেকে ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

মৌসুমী দাবি করেছেন- বিয়ের রাতেই জাকেরের অসুস্থতা ধরা পড়ে। একজন পুরুষের যা নেই, সেখানে কোনো মেয়েই তার সংসার করতে পারবে না বলে জানান তিনি। শারমিন আক্তার মৌসুমীর বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুরে। পরিবার নিয়ে আমেরিকায় বসবাস করেন। আর জাকের আহমদের বাড়ি গোলাপগঞ্জে। তিনিও প্রবাসী ছিলেন।

পারিবারিকভাবে মৌসুমী ও জাকেরের বিয়ে হয়েছিলো গত বছরের জানুয়ারিতে। বিয়ের পর মৌসুমী আমেরিকা চলে গেলে তাদের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে গত ১লা ফেব্রুয়ারি জাকের বাদী হয়ে মৌসুমী ও তার মা-বাবা’র বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আর মামলায় সে দাবি করেন- পূর্বের বিয়ে ও সন্তানের কথা গোপন করে এবং কাবিননামায় কুমারী উল্লেখ করে তার সঙ্গে বিয়ের কার্য সম্পাদন করা হয়েছে। বিয়ের পর ২৫ লাখ টাকা চাওয়ার বিষয়টি মামলায় উল্লেখ করা হয়।

জাকেরের মামলা দায়ের ও মিথ্যাচারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ মৌসুমী ও তার পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে তারা আমেরিকায় বসবাস করার কারণে দেশে এসে আইনি লড়াইয়ে নামতে পারছেন না। এ কারণে মৌসুমী তার বক্তব্য গতকাল ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেছেন বলে জানান। সিলেট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সুনাম নষ্ট করে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করতে দ্বিতীয় স্বামী জাকের আহমদ কর্তৃক মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ এবং মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগ এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ডধারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মৌসুমী।

এ বিষয়ে তিনি আমেরিকা সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে অবহিত করে জাকেরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন- ‘১৯৯৫ সালে ৬ বছর বয়সে তিনি আমেরিকায় যান। ২০১২ সালে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার ডা. ফরিদ আহমদের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তার একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। তবে প্রথম স্বামী আমেরিকার গ্রিনকার্ড পাওয়ার পর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ লেগেই থাকে। এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের ৩০শে আগস্ট তিনি তাকে তালাকের নোটিশ পাঠান।’ এর তিন বছর পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সিলেটের গোলাপগঞ্জের জাকের আহমদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে হয় তার।

প্রথম বিয়ে এবং সন্তানের কথা জাকেরের পরিবারও জানে। এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানে সন্তান আইয়ান নাহি আহমদও উপস্থিত ছিল। কিন্তু বিয়ের রাতেই জাকেরের অসুস্থতার কথা ধরা পড়ে। যা পরে তার ভাবি ও বোনকে জানালে তারা বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য অনুরোধ করেন এবং আমেরিকায় গিয়ে চিকিৎসা নিলে ঠিক হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন। এরই মাঝে গত বছরের ২৮শে জানুয়ারি তিনি আমেরিকা চলে যান।

মৌসুমী জানান, ‘আমেরিকা গেলেও জাকেরের সঙ্গে মোবাইলে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। সে সব সময় তাকে আমেরিকায় নিয়ে আসার জন্য বলতো। তবে গত নভেম্বরে তার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ফোনালাপে ঝগড়া হলে তা পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রকাশ পেয়ে যায়। এবং তার সঙ্গে ফোনালাপ না করার পরামর্শ দেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি ফোনে কথা বন্ধ রাখেন।’

তিনি জানান- কথাবার্তা বন্ধ হতেই প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে গত ১লা ফেব্রুয়ারি জাকের বাদী হয়ে তার মা-বাবা ও তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। আর মামলায় সে দাবি করে- পূর্বের বিয়ে ও সন্তানের কথা গোপন করে এবং কাবিননামায় কুমারী উল্লেখ করে তার সঙ্গে বিয়ের কার্য সম্পাদন করা হয়েছে। অথচ পূর্বের বিয়ে ও সন্তানের সকল ডকুমেন্ট আমেরিকা অ্যাম্বাসিতে রেকর্ড রয়েছে। মৌসুমী দাবি করেন- জাকেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমেরিকায় আনতে না পারায় সে প্রতারণামূলকভাবে এ মামলা করেছে। একই সঙ্গে জাকের ২৫ লাখ টাকা দাবি করার মিথ্যাচারও করছে।

এ নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অনলাইন ও দৈনিক পত্রিকায় মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করে আমার এবং আমার পরিবারের সুনাম নষ্ট করে এবং সমাজে আমাদেরকে হেয়প্রতিপন্ন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে- জাকের আহমদ ও তার পরিবারের সদস্যরা মৌসুমীর এ দাবিটি মানতে নারাজ। তারা মামলার এজাহারে দেয়া বক্তব্যকেই সঠিক বলে দাবি করেছেন। পুলিশি তদন্তে সত্যতা মিলবে বলে দাবি করেন তারা।