মুক্তি পেয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে পরকীয়া নারী তাহমিনা

প্রকাশিত:সোমবার, ১৫ ফেব্রু ২০২১ ০৬:০২

মুক্তি পেয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে পরকীয়া নারী তাহমিনা

সিলেট অফিস।। দীর্ঘ ২৫ দিন ভবঘুরে ও ১০ দিন বন্ধীশালায় থাকার পর অবশেষে বোনের ঘরে ঠাঁই মিলেছে পরকীয়া নারী তাহমীনার।

 

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বোনের জিম্মায় তাকে মুক্তি দিয়েছেন আদালত। এদিকে তার শাশুড়ীর দেওয়া মামলাটি জালালাবাদ থানা পুলিশের কাছে রয়েছে। ফলে বোনের বাড়ি থেকে বর্তমানে তালাকদাতা স্বামী শাশুড়ি ও সন্তানদের বিরুদ্ধে রকমফের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সুনামগঞ্জের ছাতক থানার রায় সন্তুষপুর গ্রামের মৃত আক্তার আলীর মেয়ে তাহমীনা বেগম। প্রেমের সূত্র ধরে বিয়ে হয় সিলেট সদরের মোগলগাঁও ইউনিয়নের কেমিদপুর ভুলতা গ্রামের সৌদী প্রবাসী কবির মিয়ার সাথে। প্রেমে জড়িয়ে পড়ার পর অস্ত্রের মূখে কবির মিয়াকে বিয়ে করতে বাধ্য করে সে। বিয়ের পরে তাদের ঘরে দুটি সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু বহুগামী অভ্যেস বদলাতে পারেনি তাহমীনা।

 

স্বামীর অনুপস্থিতিতে আবারো পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে একই ইউনিয়নের ভগতিপুরের আরেক বিদেশ ফেরত নূর মিয়ার সাথে। তাদের মধ্যে চলতে থাকে অবৈধ সম্পর্ক। একপর্যায়ে নারী ছেড়া দু’সন্তান ফেলে রেখে ৯ জানুয়ারি রাতের আঁধারে পরকীয়া প্রেমিক নূর মিয়ার হাত ধরে পালিয়ে যায় তাহমীনা। স্বামী ঘর থেকে চুরি করে নিয়ে যায় নগদ ৫ লাখ টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩টি মোবাইল ফোন। এ ঘটনায় তার শাশুড়ি ছফিনা বেগম ১০ জানায়ারি এসএমপির জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডয়েরী করেন।

হাত ধরে পালিয়ে গেলেও দুদিন টিকে থাকতে পারেননি পরকীয়া প্রেমিক নূর মিয়ার বাসরে। ইজ্জত,টাকা, সোনা ও মোবাইল সবকিছু কেড়ে রেখে তাকে তাড়িয়ে দেয় নূর মিয়া। ফলে রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় তাহমিনা। এঘটনায় তার শাশুড়ি ছমিরা বেগম গত ১১ জানুয়ারি এসএমপির জালালাবাদ থানায় তাহমীনা ও তার পরকীয়া প্রেমিককে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি চুরির মামলা দেন।

রাস্তা থেকে পরে আশ্রয় মিলে মোগলগাঁও ইউপি মেম্বার বাবুল মিয়া ও ফজলু মিয়ার কাছে। দীর্ঘ ২১ দিন দুই মেম্বারের আদরে থাকার পর অবশেষে ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ফিরে যেতে বাধ্য হয় স্বামী কবির মিয়ার বাড়ি। কিন্তু এর আগেই ঘটনার খবর পেয়ে স্বামী কবির মিয়া তাকে তালাক দিয়ে দেয়।

অন্যদিকে পিতৃপরিবারের কেউই তাকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি। ফলে পুলিশের মাধ্যমে আশ্রয় নেয় নগরের বাগবাড়িস্থ নারী ও শিশু হেফাজতী কেন্দ্র নামের বন্দীশালায়। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বোনের জিম্মায় বন্দীশালা থেকে বের হয়ে বোনের বাড়িতে থাকছে তাহমিনা। এখানে শ্বাশুড়িকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন নারী নির্যাতন, এমনকি দুই সন্তানকে অপহরণ হত্যা ও গুম করিয়ে মামলা দায়েরের। এলক্ষ্যে তাহমীনা বেগম তার অনুগত একদল লোক নিয়ে প্রায়ই স্বামীর বাড়ির আশপাশে ঘুরাঘোরি করছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ।

ফলে শ্বাশুড়ি তার দুই নাতি-নাতনি ও পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। এমন অভিযোগ শাশুড়ি ছফিনা বেগমের।