জগন্নাথপুরে বালু মাটি দিয়ে হাওর রক্ষা বাঁধ! হুমকির মুখে ফসলি জমি

প্রকাশিত:বুধবার, ১০ ফেব্রু ২০২১ ০৭:০২

জগন্নাথপুরে বালু মাটি দিয়ে হাওর রক্ষা বাঁধ! হুমকির মুখে ফসলি জমি

মোঃ আলী হোসেন খান:-  সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বালু মাটি দিয়ে হচ্ছে হাওর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে ফসলি জমি। পাহাড়ি ঢল হাওরবাসীদের জন্য অভিশাপ। সর্বনাশা এই ঢলে বিস্তীর্ণ হাওরের ফসল বিনষ্ট হওয়ার সঙ্গে মানুষও হয়ে পড়ে জলবন্দি।হাওরবাসীদেরকে পাহাড়ি ঢলের বিপদ থেকে রক্ষায় তৈরি করা হচ্ছে ‘হাওর রক্ষা বাঁধ’। কিন্তু উদ্বেগজনক খবর হচ্ছে, এই বাঁধ তৈরি হচ্ছে বালুমাটি দিয়ে। যা পাহাড়ি ঢলে বিপদ বাড়বে আরো ও বিষ্টির পানি ফড়লে ধসে যাবে।

জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়া হাওর পোন্ডার -০১) মহিয়া হাওর এলাকার স্টিল ব্রীজের ডান তীর এবং বাঁধ হচ্ছে তীরের ২০ নং ( পিআইসি)প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বিপ্লব চন্দ্র দাস, সাং নলুয়া নোয়াগ্রাও,সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম,সাং চিলাউড়া নয়াপুঞ্জি। সম্পূর্ণ বাঁধের কাজ বালু মাটি দিয়ে করাচ্ছেন। দ্রুত এই বালুর বাঁধ ভেঙ্গে নতুন করে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরজমিনে দেখা গেছে, মইয়া হাওরের স্টিল ব্রীজের নদীর ডান তীরের সাথে ২০ নাম্বার উপ-প্রকল্পের,৩২.০৫৬ হতে কিঃমিঃ হতে কিঃমিঃ – ৩২.৩০৬ এর ২৫০কিঃমি মিটার বাঁধের ভাঙা বন্ধকরণ ও মেরামত কাজের সম্পূর্ণ বাঁধ বালু মাটি দিয়ে করা হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে বালু মাটিতে পা ফেললেই পা গেড়ে যাচ্ছে।বালু মাটির উপরে ঘাস দিয়ে ঢাকা হচ্ছে বালু মাটি।

এসময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বিপ্লব দাস এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, এখানে বালু মাটি আছে, ভালো মাটি কোথা থেকে পাবো! তাই তারা বালু মাটি দিয়েই কাজ শেষ করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা হাসান গাজি জানান আমি খোজ নিয়ে দেখছি বালু মাটি দিয়ে কাজ করা হবেনা। মইয়া হাওরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ হচ্ছে ২০ নং পিআইসি।

উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এই দুই ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ উঁচু করার জন্য এ বছর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৩ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা। পিআইসি দায়িত্বশীলরা বাঁধের কাজ করেছেন বাঁধের নিচে বালু মাটি দিয়ে হচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন বলেন, যেভাবে হাওর রক্ষা বাঁধ বালু মাটি দিয়ে করা হচ্ছে- এরকম বাঁধ নির্মাণ হলে বর্ষার এক সপ্তাহের বৃষ্টিতেই ভেঙে যাবে বাঁধ। তাতে এই বাঁধ হাওরের কোন কাজে আসবে না। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ কর্তৃপক্ষ যেন দায়সারাভাবে কাজ করাচ্ছেন।
বাঁধের কাজে সরকারের টাকাই ব্যয় হবে কিন্তু ফসল রক্ষার কাজে আসবে না। তাই কতৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বছর নদীর দু’পারে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ হচ্ছে। কিন্তু বাঁধের কাজ হচ্ছে বালু মাটি দিয়ে। এই মাটি এক মাসও টিকবে না। বাঁধের মাটি বর্ষার বৃষ্টিতে ভেঙে নদীতে চলে যাবে।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন আমি খোজ নিয়ে দেখতেছি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন বালু মাটি দিয়ে বেড়িবাঁধ করা চলবে না আমি খোজ নিয়ে দেখতেছি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।