সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে জগন্নাথপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির মানববন্ধন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০২ ফেব্রু ২০২১ ০৬:০২

সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে জগন্নাথপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার:-  সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দৈনিক সংবাদের স্থানীয় সাংবাদিক কামাল হোসেনকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের প্রতিবাদে ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করেকঠোর শাস্তি প্রদানের দাবিতে জগন্নাথপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে জগন্নাথপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে জগন্নাথপুর ( পৌর পয়েন্টে) এ মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্র মিডিয়ায় কর্মরত সংবাদকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা একাত্মতা পোষন করেন।

এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে চার জনকে আটক করে তাহিরপুর থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

জগন্নাথপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি দৈনিক সকালের সময়ের জগন্নাথপুর প্রতিনিধি আমিনুর রহমান জিলুরসভাপতিত্বে ও জগন্নাথপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক চ্যানেল এসের প্রতিনিয়ত মোঃ আলী হোসেন খানের পরিচালনা মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন
সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য আমিনুর রহমান শিপন, জগন্নাথপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ সভাপতি দৈনিক আগামীর সময় প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীর ফরীদি, জগন্নাথপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি দৈনিক বাংলাদেশ মিডিয়ার প্রতিনিধি আব্দুল ওয়াহিদ, জগন্নাথপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ সভাপতি দৈনিক বিজয়ের কন্ঠের প্রতিনিধি ইকবাল হোসাইন,জগন্নাথপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাপ্তাহিক জগন্নাথপুরের আলোর স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ আহমদ তালুকদার, জগন্নাথপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য দৈনিক সিলেটের জমিন প্রতিনিধি নিকেশ বৈদ্য, আরো উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র শফিকুল হক শফিক, পৌর সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ছালিক আহমদ পীর,সহ সভাপতি সুধাংশু, সৈনিক লীগের সভাপতি ফারুক আহমদ, উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমদ, সদস্য জাহাঙ্গীর মিয়া, জগন্নাথপুর উপজেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের সদস্য ফকির আজিজ মিয়া, হাজারী গ্রুপের সভাপতি আনফর হাজারী, শাহ সাউন্ডের পরিচারক শাহ মোঃ রমিজ আলী, শাহ মজনু মিয়া,আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।

মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা সাংবাদিক কামাল হোসেনকে গাছের সাথে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এ ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোরে শাস্তির দাবি জানান। অন্যতায় আগামীতে সাংবাদিক নেতারা আরো কঠোর কর্মসূচী দেয়ার ও হুশিয়ারী উচ্চারন করেন তারা।

নেতারা আরো বলেন এই হাওরের জনপদ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সৌন্দর্য্যের অপর লীলাভূমি যাদুকাটা নদী। যেখানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা পর্যটন এলাকা হিসেবে খ্যাত যাদুকাটা দেখতে আসেন। আর সেই জায়গাতে প্রতিনিয়ত স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখ ফাকিঁ দিয়ে দিন কিংবা রাতে সরকারের রাজস্ব ফাকিঁ দিয়ে নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু ও পাথর উত্তোলন করে তারা অল্পসময়ে লাখোপতি কোটিপতি বনে গেছেন।

ঐ সমস্ত ভূমিখেকো চক্রের সদস্যদের এমন একসময় ছিল যাদের সুস আনতে পানতা পুড়াত তারা এখন তাদের অবৈধ বালুর ব্যবসা অব্যাহত রাখতে মূল বাধার কারণ হিসেবে সংবাদকর্মীদের মুখ বন্ধ রাখতে ভীত করতেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় তাহিরপুর উপজেলা সাংবাদিক কামাল হোসেনকে গাছের সাথে বেধেঁ অমানসিক নির্যাতন করে যা পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর বর্বরতাকে ও হার মানিয়েছে।

সাংবাদিক সমাজের আয়না সাংবাদিক জাতির বিবেকের অপর নির্যাতন করেছে। উল্লেখ্য, গত ১লা ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট জাদুকাটা নদীর ঘাগটিয়া এলাকায় নদীর তীর কেটে বালু-পাথর উত্তোলনের ছবি তোলার চেষ্টা করায় সাংবাদিক কামাল হোসেন (৩০) কে গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা ভর্তি করা হয়েছে।

সাংবাদিক কামাল হোসেন উপজেলার বাদাঘাট বাজার এলাকার কামরাবন গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। সাংবাদিক কামাল হোসেনকে গাছে বেঁধে মারপিটের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হলে সেটি ভাইরাল হয়।জগন্নাথপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকরা বলেন ৪৮ ঘণ্টার মাধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দিতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ