যুক্তরাজ্য থেকে সুনামগঞ্জ বিএনপির ‘নিয়ন্ত্রক’ কে এই কয়ছর

প্রকাশিত:শুক্রবার, ২৯ জানু ২০২১ ১০:০১

যুক্তরাজ্য থেকে সুনামগঞ্জ বিএনপির ‘নিয়ন্ত্রক’ কে এই কয়ছর

মাসুম হেলাল, সুনামগঞ্জ :: বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের নেকনজরে আসার পর থেকে যুক্তরাজ্য বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদের প্রভাব হু হু করে বাড়ছে সুনামগঞ্জ বিএনপিতে।

সমালোচকরা বলছেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর লন্ডনে বসে নিজ এলাকায় সংসদ সদস্য হওয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আঁটছেন। তার অনুগতরা পাচ্ছেন পদ-পদবি; উপজেলা, ইউনিয়ন ও পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রতীক। আর তার কর্মকান্ডে বিক্ষুব্ধরা হয় কোণঠাসা না হয় অভিমানে রয়েছেন রাজনীতি থেকে দূরে।

দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হারুনুজ্জামান হারুন ৮১৭ ভোট পেয়ে শোচনীয়ভাবে হেরেছেন। কয়ছরের এই আস্থাভাজনের জামানতও বাজেয়াপ্ত। জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান আক্তার নির্বাচনে ‘অভিমানে’ দলীয় প্রতীক না চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার উদ্যোগ নেন। তাকে মনোনীত করার উদ্যোগ না নিয়েই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হারুনুজ্জামান হারুনকে। কয়ছর প্রায় দুই দশক ধরে যুক্তরাজ্যে আছেন; তার বাড়ি জগন্নাথপুর পৌরসভার ছিলিমপুর গ্রামে।

১৯৯৮ সালে জগন্নাথপুরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা হাফিজ নিহত হলে যে হত্যা মামলা হয় তাতে তিনি সাক্ষী। কিন্তু কয়েকবার দেশে ফিরে আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য না দেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। ফলে মামলা থেকে খালাস পেয়ে যান অভিযুক্তরা। পরে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেকনজরে আসেন কয়ছর। এরপর দলীয় রাজনীতিতে ‘শক্তিমান’ হয়ে উঠলেন তিনি।

মেয়র আক্তার বলেন, উপজেলা বিএনপি তো বটেই জেলা বিএনপির নেতারা এখন কয়ছরের কথায় উঠবস করেন। ফলত দল দিন দিন দুর্বল হচ্ছে। কর্নেল (অব.) আলী আহমদ বলেন, কয়ছর এমপি হতে চান। তাই তারেক রহমানের সঙ্গে যে সম্পর্ক রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে দেশের রাজনীতিতে যা খুশি তাই করে চলেছেন। জনপ্রিয়দের দূরে ঠেলে দিয়ে জনবিচ্ছিন্নদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে ধানের শীষের ভরাডুবি ঘটাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, কয়ছরের ভাই কবির আহমদ জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক। অথচ তিনি টানা ছয় বছর লন্ডনে।

সৌজন্যে: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ