ভিক্ষার ছলে নারীর দেহে হাত দেয়া ছিল তার নেশা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৬ জানু ২০২১ ০৯:০১

ভিক্ষার ছলে নারীর দেহে হাত দেয়া ছিল তার নেশা

এনামুল হক বুলু (৬২)। তার বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিনগর গ্রামে। সে নগরের শেখেরচক পাঁচানিমাঠ এলাকার জনৈক সেলিমের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

রাজশাহীতে রাস্তায় চলাচলকারী নারীদের অভিনব কায়দায় যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গেলো রোববার ৬২ বছর বয়সী বুলুর যৌন হয়রানির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাতেই অভিযান চালিয়ে নগরের বোয়ালিয়া থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

সোমবার ভিডিওটি দেখে ভুক্তভোগী এক তরুণী বৃদ্ধকে শনাক্ত করতে পেরে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
বুলুকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার দুপুরে নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, ভিক্ষাবৃত্তির নামে ভিড়ের মধ্যে নারীদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়ার ভিডিওটি রোববার ভাইরাল হলে তাদের নজরে আসে। এরপর তাকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয় পুলিশ। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর এক তরুণী তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ২৪ জানুয়ারি ধারণ করা হলেও মামলার বাদী বলেছেন, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ওই বৃদ্ধ তাকে শ্লীলতাহানি করেছিলেন।

মামলার এজাহারে ওই তরুণী অভিযোগ করেন, শহরের এক স্থানে ওই বৃদ্ধ সেদিন তাকে বলেছিলেন, তিনি হাঁটতে পারছেন না। তাকে যেন ওই তরুণী একটু ধরেন। ওই তরুণী তাকে ধরলে বৃদ্ধ তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। সঙ্গে সঙ্গে ওই তরুণী তাকে ছেড়ে চলে যান।

রোববার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তিনি তাকে চিনতে পারেন। এরপর সোমবার সকালে শোনেন পুলিশ তাকে আটক করেছে। তাই তিনি থানায় গিয়ে মামলা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরএমপির মুখপাত্র বলেন, নারীদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়া তার নেশা। ভিক্ষাবৃত্তির নামে এই বৃদ্ধ অনেক দিন ধরেই কাজটি করে আসছিলেন। তারা মাঝে মাঝেই এমন অভিযোগ পাচ্ছিলেন। কিন্তু তাকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। ভিডিওটি ভাইরাল হলে তাকে শনাক্ত করা সহজ হয়। রাতভর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ