জগন্নাথপুর কলকলিয়া ইউপির জনগণের উদ্দেশ্যে যা বললেন আখতারুজ্জামান!

প্রকাশিত:সোমবার, ২৫ জানু ২০২১ ১২:০১

জগন্নাথপুর কলকলিয়া ইউপির জনগণের উদ্দেশ্যে যা বললেন আখতারুজ্জামান!

প্রিয় এলাকাবাসী,
আস-সালামু-আলাইকুম ও আদাব। শ্রেণি মোতাবেক আমার শ্রদ্ধা,ভালোবাসা ও উষ্ণ সম্ভাষন গ্রহন করুন। আমি মো: আখতার-উজ জামান সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ১নং কলকলিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কামার খাল গ্রামের বাসিন্দা। বেড়ে উঠা এই গ্রামেই। আমাদের অত্র এলাকার সুপ্রতিষ্ঠিত বিদ্যাপীঠ সফাত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে এস,এস,সি পাশ করি। এরপর এইচ,এস,সি ও স্নাতক লেখাপড়ার জন্য সিলেটে গমন করি। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেট সরকারী কলেজ থেকে উভয় কোর্স সম্পন্ন করি। ছাত্র রাজনীতির সোনালী সময় ৯০’এর দশকে সামনের সারিতে থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে ছাত্রদের অধিকার আদায় ও লড়াই সংগ্রামে সম্পৃক্ত ছিলাম। এছাড়াও সিলেট “জালালাবাদ রোটারী ক্লাব” এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ১৯৯৩ সাল থেকে যুক্ত হই।

১৯৯৬ সালে ‘সিলেট ল’ কলেজে ভর্তি হয়ে প্রথম পর্ব শেষ করলেও জীবন জীবিকার তাগিতে যুক্তরাজ্য গমন করি। রাজনীতি মানুষের অধিকার আদায়ের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম সেটা আমাকে ছাত্র রাজনীতি শিখিয়েছিল। তাই যুক্তরাজ্য এসেও সেই টান ছাড়তে পারিনি। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যুক্তরাজ্য লীডস্ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। এরপরও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন শাখায় কাজ করে যাই।২০১৩ সালে লীডস্ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি।

ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কাজে যুক্ত হয়ে পরায় সামনের সারির রাজনীতি থেকে কিছুটা আড়ালে চলে যাই। ব্যবসায়িক সাফল্যর ধারাবাহিকতায় আমি দু’ তিনটি ‘ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট ‘ গড়ে তুলি। রেষ্টুরেন্ট ব্যবসার পাশাপাশি সততা ও নিষ্ঠার দরুন আমি ‘হাউসিং প্রপার্টি ‘ ব্যবসারও প্রসার ঘটাতে থাকি। সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবাণীতে অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা বিধান করেছেন।কিন্তু মানুষের জন্য কিছু করার টান সব সময় নিজেকে তাড়িত করে। সেই জায়গা থেকে আমার সাধ্যমতো সামাজিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সব সময় ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষা ও দারিদ্র বিমোচনে অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিশেষ করে রমজান মাসে ও ঈদ উপলক্ষে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে উপহার সামগ্রী পৌছে দেয়ার কাজ গত ২ বছর ধরে করে যাচ্ছি। গত এক বছর ধরে কোভিড নাইনটিন এর কারনে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী মহামারীর থাবা প্রিয় মাতৃভূমিও বাদ যায়নি। আমার মালিকানাধীন কয়েকটি বাসার বিশ পরিবারেরও অধিক কয়েক মাসের বাড়ি ভাড়া মওকূফ করি। এই সুবিধা এখনো কিছু পরিবার পাচ্ছে। আরো বড় পরিসরে কাজ করার অভিপ্রায়ে আমি আমার ভাইদের নিয়ে “কাজিন ব্রাদার্স” নামে সংগঠন গড়ে তুলেছি। এবং এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে আমি নিজে রয়েছি। অবকাঠামোগত উন্নয়নে শরিক হতে সব সময় সর্বোচ্চ সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কাদিপুর-সাদিপুর ব্রিজ নির্মানের সময় জন-নন্দিত চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল হাশিমের আহবানে সাড়া দিয়ে এক লক্ষ টাকা প্রদান করি।

এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদবোধ সব সময় কাজ করে। যুক্তরাজ্যে “রাধারমণ সোসাইটি” অন্যতম সদস্য হিসেবে সম্পৃক্ত রয়েছি।

গত ১৭/০১/২০২১ ইং আমাদের খুব প্রিয়জন ও ১নং কলকলিয়া ইউনিয়নের পরম আত্মীয় জনাব আব্দুল হাশিমের আকস্মিক মৃত্যুতে খুবই মর্মাহত ও ব্যথিত হই। এ ক্ষতি অত্র ইউনিয়নের জন্য অপূরনীয়। উঁনার জীবদ্দশায় এলাকার উন্নয়ন নিয়ে নানান শলা-পরামর্শ হতো। উঁনার সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও বাস্তবায়নের যে ধারা রচিত করে গেছেন, সেটার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বিশেষ করে পশ্চিম অঞ্চলে উন্নয়নে অসমাপ্ত কাজগুলা সম্পন্ন করার জন্য এক ধরনের যাতনাবোধ করছি।

এই মহতি কাজে যুক্ত হতে এলাকাবাসীর তথা ইউনিয়নবাসীর নৈতিক সমর্থন ও সহযোগীতা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করি।
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে ইচ্ছা পোষন করছি। প্রকৃতপক্ষে জনগনের সেবক হয়ে এলাকাবাসীর জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরনে আপনাদের সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই।

এলাকাবাসীর সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি।