জৈন্তাপুরে মুজিব বর্ষের ঘর ফেরত দিলেন মন্ত্রী ইমরান আহমদের কাছে

প্রকাশিত:রবিবার, ২৪ জানু ২০২১ ০৭:০১

জৈন্তাপুরে মুজিব বর্ষের ঘর ফেরত দিলেন মন্ত্রী ইমরান আহমদের কাছে

মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি:- সিলেটের জৈন্তাপুরে মুজিব বর্ষের ঘর বরাদ্ধের তালিকায় উপজেলা প্রশাসনের নানা অনিয়ম ও দূনীতির মাধ্যমে ঘর বরাদ্ধ তথ্য যাচাই বাছাই ছাড়া অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত অসহায়, দুস্ত, ছিন্নমূল, ঘরহীনদের বাঁদ দিয়ে তালিকা তৈরী করে ঘর বরাদ্ধ করা হয়।

গতকাল ২৪ জানুয়ারী রবিবার বশির উদ্দিন উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন কালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি হাতে মুজিব বর্ষের বরাদ্ধ পাওয়া ঘরের যাবতীয় কাগজপত্র ফেরতদেন।

চিকনাগুল ইউপির’র ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্ধা পশ্চিম ঠাকুরের মাঠি গ্রামের মৃত রুনা মিয়ার ছেলে বশির উদ্দিন বলেন, ইউপি সদস্য পরিষদের জরুরী কাজের কথা বলে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি সংগ্রহ করেন। পরে ইউপি পরিষদ হতে আমাকে ভূমিহীন দেখিয়ে ঠাকুরের মাঠি মৌজার ১৫৩ নং জেএলস্থিত ১৬৪২ খতিয়ানের নামজারি মামলা নং ৮৬/২০২০-২১ মুজিব বর্ষের ঘর বরাদ্ধ দেন। ২২ জানুয়ারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে মুজিব বর্ষের একটি ঘরের কাগজপত্র পৌছে দেওয়া হয়। কাজপত্র পেয়ে আমি বিচলিত হই এবং তা ফেরত দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেই।

আমার ঘর বাড়ী থাকা সত্ত্বেও কি করে যাচাই বাছাই ছাড়াই উপজেলা প্রশাসন আমাকে ঘর বরাদ্ধ দিল। তাই আমি আজ ২৪ জানুয়ারী রবিবার মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের হাতে আমার নামে বরাদ্ধকৃত ঘরটি ফেরত দিলাম। এসময় তিনি বলেন, একটি সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে চিকনাগুল ইউপিতে নির্মানাধীন প্রতিটি ঘরে অনিয়ম ও দূর্নীতির করা হয়েছে। মুজি বর্ষের ঘর যারা পাওয়ার যোগ্য তাদেরকে বাদ দিয়ে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ও উপজেলা প্রশাসন তাদের ঘর বরাদ্ধ না দিয়ে যারা টাকা পয়সা দিয়েছে তাদেরকে ঘর দেওয়া হয়েছে। আমার মত অনেক পরিবার হয়ত জানে না তাদের নামে ঘর বরাদ্ধ হয়েছে। তদন্ত করলে প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে। আমি মন্ত্রী মহোদয়কে বলেছি আমার এলাকায় সরজমিনে তদন্তপূর্বক ঘর বরাদ্ধ দেওয়ার জন্য।

অপরদিকে মুজিব বর্ষের ঘর বরাদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের মনোনিত টিকাদার ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের মাধ্যমে টাকা আদায়, সরকারি নীতিমালা তোয়াক্ষা না করে ঘর নির্মাণ, নি¤œ মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল একাধিকবার জানালেও সংশ্লিষ্ট জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। মুজিব বর্ষের ঘর বরাদ্ধের অনিয়মের কথা উত্থাপন করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভিন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব ঘর বরাদ্ধ করেন।

এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, অনিয়মের বিষয়টি জানার পর মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে আমি সরেজমিন তদন্ত করে ২৩ জনের ঘর বাতিল করার কথা বললেও রহস্যজনক ভাবে উপজেলা প্রশাসন ও ঘর বরাদ্ধ কমিটি ঘর বরাদ্ধ করেছে। আজ সকলের উপস্থিতিতে একটি ঘর মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে ফেরত দিয়েছে বশির উদ্দিন। ঘর ফেরত দিয়ে বশির উদ্দিন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ