সিলেটে বন্ধুদের হাতে নাঈম খুনঃদু’জনের স্বীকারোক্তি

প্রকাশিত:রবিবার, ২৪ জানু ২০২১ ১০:০১

সিলেটে বন্ধুদের হাতে নাঈম খুনঃদু’জনের স্বীকারোক্তি

বন্ধুদের হাতেই খুন হয়েছেন সিলেটের তরুণ নাঈম আহমদ। ঘর থেকে ডেকে নিয়ে খামারের নির্জন স্থানেই তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়। এরপর লাশ তারা খামারের ভেতরে রেখেই চলে
যায়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রথমে পুলিশের কাছে এবং পরে আদালতে এসব তথ্য জানিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে নিহত নাঈমের দুই বন্ধু প্রিন্স হিমেল ও অলি আহমদ। সিলেট শহরতলীর বিআইডিসি’র খামারের ভেতরে তরুণ নাঈম খুনের ঘটনা একটি আলোচিত ঘটনা। ঘটনার পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম তদন্তে নেমেছিল। এবং ঘটনার ৪ দিনের মধ্যেই তারা রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে। গতকাল আদালতে খুনের ঘটনা স্বীকার করে আদালতেও জবানবন্দি দিয়েছে।

 

বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আদালতে তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। গত মঙ্গলবার শহরতলীর খাদিমের বিআইডিসি’র খামারের ভেতর থেকে মোহাম্মদপুর এলাকার তরুণ নাঈমের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নাঈমের শরীরে ছুরিকাঘাতের ৮টি চিহ্ন রয়েছে। এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থান ছিল রক্তাক্ত। খুনের ঘটনার আগে নাঈম ও তার তিন বন্ধু খামারের ভেতরে ঢোকার সময় পাহারাদার তাদের বাধা দিয়েছিল। কিন্তু বাধা উপেক্ষা করে তারা খামারের ভেতরের নির্জন স্থানে ঢুকে পড়ে। এরপর ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত নাইমের মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে নাঈমের বন্ধু সবুজ, রাব্বি, জুনেদসহ আরো অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা দায়েরের আগেই বিকালে নাঈমের বন্ধু দেলোয়ার হোসেন সবুজকে শাহপরাণ এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। এরপর নাঈমকে তিনদিনের রিমান্ডে  নেয়া হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ জানায়, নাঈমের লাশ উদ্ধারের সময় হাতে ‘নাম্মি’ নামে এক মেয়ের নাম সংবলিত ‘ট্যাটু পাওয়া যায়। ফলে প্রেমঘটিত বলে প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে প্রেমঘটিত কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি। একটি আইফোনকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল বলে জানতে পারে পুলিশ। পরে পুলিশ এ ব্যাপারে তদন্তে নামে। তদন্তের এক পর্যায়ে গত শুক্রবার রাতে শাহপরান থানা পুলিশ নিহত নাঈমের বন্ধু প্রিন্স হিমেল ও অলি আহমদকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত হিমেল হচ্ছে নগরীর শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার ফুলিয়ার ছেলে ও অলি আহমদ একই এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে। এদিকে গ্রেপ্তারের পর রাতে পুলিশ তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে খুনের রহস্য উন্মোচিত হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রিন্স হিমেল ও অলি আহমদ খুনের ঘটনা স্বীকার করে। এবং আইফোন নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে নাঈমকে খুন করা হয়েছে বলে জানায়। একটি আইফোন নাঈমের বন্ধুরা ‘হারিয়ে গেছে’ জানিয়ে গোপনে বিক্রি করে দিয়েছিলো। আর বিষয়টি জানতো নাঈম। গতকাল বিকালে পুলিশ তাদের আদালতে পাঠালে আদালতেও তারা খুনের ঘটনা স্বীকার করে। ঘটনার সঙ্গে আর কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা পুলিশ তদন্ত করছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. আশরাফ উদ্দিন তাহের জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত হিমেল ও অলিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এবং খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে। তিনি জানান, ঘটনার সামগ্রিক বিষয় জানতে পুলিশ তদন্তে রয়েছে। এদিকে রিমান্ডে থাকা  দেলোয়ার হোসেন সবুজ সিলেটের  গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুরের বড়নগর গুলনি চা বাগানের লাল মিয়ার  ছেলে। সে বর্তমানে শাহপরাণ এলাকার চামেলীবাগে বসবাস করেন। সবুজ এলাকায় মাদকসেবী ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। নিহত নাঈমের স্বজনরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার নাঈম বাসাতেই ছিল। দুপুরে ভাত খাওয়ার আগে তাকে মঙ্গলবার সবুজ ও রাব্বি নামের দু’জন জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর নাঈমের লাশ পাওয়া যায়। সবুজ মাদকাসক্ত ছিল বলে জানান তারা। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে এলাকায়।