মৌলভীবাজারে বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশিত:সোমবার, ২৮ ডিসে ২০২০ ০৬:১২

মোঃ তাজুদুর রহমান:-  মৌলভীবাজার বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
(২৭ ডিসেম্বর) রবিবার সকালে,সদর উপজেলার ছিড়াইনগর গ্রামের শাহাবন্দর খাঁন বাড়ির বাসিন্দা সায়েদ মিয়ার স্ত্রী গর্ভবতী লাকী খানমকে ভর্তি করা হয় বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালে।
অনুমান সকাল ০৭ ঘটিকায় গর্ভবতী লাকি খানম প্রসব ব্যাথায় যখন যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন তখন তার স্বামী সায়েদ মিয়াকে ডেকে আনা হয়, বলা হয় আপনার স্ত্রীর নরমাল ডেলিভারি করবো নাকি সিজার। সায়েদ মিয়া জানান, নরমাল সিজার বুঝিনা আমার সন্তান ও স্ত্রী যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেই ব্যবস্হা অনুযায়ী আপনারা করেন। তখন কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, আপনার স্ত্রী সকল রিপোর্ট ভালো আছে এবং বাচ্চার পজিশন ভালো আছে।
কর্তব্যরত ডাক্তারের উপস্থিতিতে হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স ও আয়া নরমাল ডেলিভারি করার জন্য রুমে প্রবেশ করিয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা চেষ্টা করার পরও ব্যর্থ হয়ে রোগীর স্বামীকে আনেন। তখন সায়েদ ঐ রুমে প্রবেশ করে দেখেন বাচ্চার মাথা ও কানে টেনে কিছুটা বের করে আর পারছেননা, তখন তিনি ডাক্তারকে বলেন আমার বাচ্চার যে অবস্থা আপনারা মেরেই ফেলবেন। তখন ডাক্তার বললেন আপনার স্ত্রীর সিজার করানো লাগবে আপনে কোন চিন্তা করবেননা এদিকে আসেন এই কাগজে আরেকটি স্বাক্ষর দিয়ে মিষ্টি নিয়ে আসেন। আর শিশু ডাক্তার আনতে হবে টাকা দিন।
তারপর সিজার রুমে প্রবেশ করানো হয়। সিজারের সময় শিশুর কান্না শোনা যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর আয়া বাচ্চার একহাত ধরে ঝুলিয়ে রুমে নিয়ে আসে। রুমে নিয়ে শিশু ডাক্তার শিশুর মুখে অক্সিজেন লাগিয়ে দেন তখন সায়েদ মিয়া ডাক্তারকে প্রশ্ন করলেন আমার বাচ্চা কি জীবিত, তখন ডাক্তার বললেন হার্টবিট অনেকটি কাজ করতেছে। তখন সায়েদ মিয়া শিশুর মুখ থেকে অক্সিজেন খোলে দেখেন শিশু জীবিত নেই। তখন ডাক্তারকে বলেন আমার বাচ্চাকে মেরে এনে আপনারা মৃত বাচ্চার মুখে কেনো অক্সিজেন লাগিয়ে রাখছেন। তখন ডাক্তার কিছু না বলে রুম থেকে বাহির হয়ে যান। তিনি জানান, হাসপাতালের মালিক আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন ছিল্লাছিল্লি করে মানুষকে শুনাইয়া লাভ নাই আসো আমার চেম্বারে কতো টাকা লাগবে আপোষ করে নেই।
 তখন সায়েদ মিয়া টাকা দিয়ে আপোষ করবেননা জানালে, মালিক বলেন মৌলভীবাজারের এসপি, ডিসি, সিভিল সার্জন সব আমার তুমি কিছু করতে পারবেনা।
এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সায়েদ মিয়া।
এ বিষয়ে বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালে সরজমিন  গেলে পরিবেশ অনেকটা উত্তেজনা দেখা যায়।এসময় ঘটনাস্হলে পুলিশ মোতায়েন ছিলো।
সায়েদ মিয়া  কান্না করে উত্তেজিত হয়ে কথা বলছিলেন তখন হাসপাতালের মালিক বদরুন্নেছা এসে বারবার শান্তনা দিয়ে বলেন আপনার সন্তানকে এনে দিচ্ছি শান্ত থাকুন।
বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক বদরুন্নেছার ছেলের বউ হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ডাঃ যাকিয়া শহীদ জানান, আমরা সম্পূর্ণ প্রসেসিং হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী করেছি। রোগীপক্ষের কথামতো আমরা প্রথমে নরমাল চেষ্টা করছি ডেলিভারির জন্য পরে সিজার করছি। দেখুন নরমালের জন্য প্রথমে আমরা স্বাক্ষর নিয়েছি, সিজারের সময়ও আমরা স্বাক্ষর নিয়েছি।
এখানে উল্লেখ আছে পড়ে দেখুন বাচ্চা যদি মারা যায় তাহলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ তাওহীদ আহমদ এর মোঠেফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি জানেন কিন্তু লিখিত কোন অভিযোগ পাননি। যদি লিখিত কোনো অভিযোগ পাই তাহলে বোর্ড গঠন করে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্হা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য- গত (৩০ সেপ্টেম্বর) বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালের ডাক্তারের গাফিলতির কারণে সাড়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন রোগীর স্বজনেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, রোগীর অবস্থা জটিল ছিল। তাই চেষ্টা করেও বাঁচানো যায় নি ।
রোগীর স্বজনেরা বলেন, লিলি বেগম মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বলিয়ারবাগ গ্রামের মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী আহাদ মিয়ার স্ত্রী। সাড়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই নারী চিকিৎসা নিতে আসেন বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালে,কিন্তু কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবার নামে লিলি বেগমের পরিবারকে আতংকিত করে তুলেন এবং বলেন গর্ভবতীকে সিজার না করালে তাকে বাঁচানো যাবেনা তখন লিলির পরিবারকে বাধ্য করা হয় সিজার করানোর জন্য একপর্যায়ে লিলিকে সিজার করার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয় অপারেশন থিয়েটার (ওটি) তে ।
এর কিছুক্ষণ পর জানানো হয় লিলি মারা গেছেন এরপর থেকে ডাক্তার নার্স এমনকি আয়া পর্যন্ত পালিয়ে যান।
এরপর রোগীর অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী করা তীর সরাসরি গিয়ে পড়ে বদরুন্নেছার ডাক্তার ও সংশ্লিষ্টদের ওপর।স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে দায়িত্বরত ডাক্তার, নার্স, আয়াসহ অন্যান্যদের দেখতে না পেয়ে হাসপাতালটিকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরে খবর পেয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের প্রভাবশালীদের সাথে সু-সম্পর্ক থাকায় কিছুই হয়নি। কিছুদিন পরপর এমন ঘটনা ঘটছে হাসপাতালে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ