যেভাবে বুঝবেন নাকে পলিপ, কী করবেন

প্রকাশিত:রবিবার, ২৭ ডিসে ২০২০ ১০:১২

শীতের সময়ে ধুলোবালি বেশি থাকে। এ সময়ে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে বাইরে ধুলোবালির প্রকোপ বাড়ে।  এর ফলে এলার্জির সমস্যা দেখা দেয়।  আর এলার্জি থেকে নাকের পলিপের সমস্যা বাড়ে।

হাঁচি, সর্দি, নাক থেকে পানি পড়ার ফলে নাক বন্ধের সমস্যা হয় অনেকের। ফলে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে অসুবিধা হবে। সংক্রমণ বা ইনফেকশন হয়ে নাক থেকে সর্দি পড়ে। অনেক সময় সর্দি পেকে নাক থেকে পুঁজের মতো তৈরি হওয়া শুরু হয়। এসব দীর্ঘিদিন চলতে থাকলে স্থায়ীভাবে নাক বন্ধ হয়ে যায়। এই লক্ষণগুলো নাকের পলিপ আক্রান্ত সব রোগীর ক্ষেত্রে বেশি দেখা দেয়।

নাকের পলিপ কি?

নাকের ভিতরে যে মাংসপেশি এবং মিউকাস এর আবরণ আছে, সেগুলো অনেক সময় ইনফেকশন বা এলার্জির কারণে সংবেদনশীল হয়ে  পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া করতে শুরু করে। অনেক দিন চিকিৎসায় না করলে এগুলোতে পানির মতো করে ফুলে শেষ পর্যন্ত পলিপের মতো তৈরি হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে নাকের পলিপকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১. ইথময়ডাল পলিপ বলি
২. এনট্রোকোয়ানাল পলিপ বলি।

ইথময়ডাল পলিপ বলি

ইথময়ডাল পলিপের ক্ষেত্রে নাকের যে ওপরের অংশ, যাকে নাকের সেতু বলা হয়, এখানে অনেক কোষ থাকে। কোষের দেয়াল পাতলা থাকে, এগুলো ফুলে মাংসপেশি হিসেবে ঝুলে পুরোটাই বন্ধ হয়ে যায।  এর মূল কারণ এলার্জি। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে এই ধরণের পলিপ বেশি দেখা যায়। ইথময়ডাল পলিপ নাকের দুই পাশেই একসাথে হয়।

এনট্রোকোয়ানাল পলিপ

এনট্রোকোয়ানাল পলিপ মেক্সিলা নামক বায়ুকুঠুরি থেকে আসে।  এটি সাধারণত নাকের পেছনের দিকে গিয়ে গলায় বড় হয়ে নাকের আকৃতিটাই বন্ধ করে দেয়। তখন শ্বাস নিতে পারে না। এই ধরণের পলিপের মূল কারণ ইনফেকশন। এনট্রোকোয়ানাল পলিপ শিশুদের বেশি হয়।

পলিপ কীভাবে বুঝবেন

অনেকেই নাকের মধ্যে মাংসপিণ্ডের মতো দেখায় সেটাকে পলিপ বলে ভুল করেন।  বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এগুলো পলিপ নয়। এগুলোকে টারবিনেট বলে। ইনফিরিয়র টার্বিনেট দুই পাশে বড়। এই ইনফিরিয়র টার্বিনেটকে পলিপ বলে বিভিন্ন অপচিকিৎসা করা হয়।

পলিপটা হবে সাদা, আঙ্গুর ফলের মতো। এটা যদি আমরা কিছু দিয়ে স্পর্শ করি এর কোনো সেন্স থাকবে না। টার্মিনেট হবে একটু লালচে। আর পলিপের চারপাশে দেখা যায় ঝুলন্ত থোকার মত।

কী করবেন 

এসব সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

লেখক: ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী, এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য),
নাক-কান-গলা বিভাগ,
বিএসএমএমইউ (প্রেষণে), ঢাকা।