প্রশাসনের কাছে গোপন রেখে মাহফিল; মামুনুল হক আইয়ুবিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত:রবিবার, ২৭ ডিসে ২০২০ ১১:১২

প্রশাসনের কাছে গোপন রেখে মাহফিল; মামুনুল হক আইয়ুবিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লার চান্দিনা থানায় মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিনা দাওয়াতে মাহফিলে অংশগ্রহণ করার কারণে মামলা হয়েছে।

কারী ইসমাইল রহমতুল্লাহি ফাউন্ডেশন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে ইসলামী মহাসম্মেলনে গত ১৫ ই ডিসেম্বর যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। দুই দিনব্যাপী ওই মাহফিলের দ্বিতীয় দিনের প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী।

সেই সম্মেলনে আনুমানিক রাত নয়টার দিকে বক্তব্য প্রদান করেছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান। তার সেই বক্তব্যের খন্ডিত অংশ অশোভন শিরোনাম এবং থামনেল দিয়ে প্রচার করে একটি ইউটিউব চ্যানেল।

আজ ২৬ ডিসেম্বর (শনিবার) জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের আহবানে সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান জনাব মিছবাহুর রহমান চৌধুরী ভাস্কর্য ইস্যুতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানাধীন জোয়াগ পশ্চিম পাড়া এলাকায় দুই দিনব্যাপী ইসলামী মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আয়োজকেরা আমাকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখার জন্য দাওয়াত করেন।”

“যথারীতি উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রেখে রাত ১১ টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই। আমি ঢাকায় পৌঁছে শুনতে পেলাম হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক বিনা দাওয়াতে উক্ত মাহফিলে যোগ দেন। তার কিছু অনুসারীদের অনুরোধে বারোটার পর তিনি কিছু সময় বক্তৃতা করেন।”

“পরেরদিন মামুনুল হক সাহেবের ব্যক্তিগত আইডি এবং জামাত-শিবিরের ইউটিউব, ফেসবুক, ইত্যাদি যোগাযোগ মাধ্যমে “মামুনুল হকের সম্মেলনে মিছবাহুর রহমান চৌধুরি” শিরোনামে আমার বক্তব্য প্রচার শুরু করে। কিন্তু মামুনুল হক আসবেন, এ বিষয়টি আমি করবে অবগত ছিলাম না। বিনা দাওয়াতে ওই সম্মেলনে যোগদান করার কারণে চান্দিনা থানায় মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।” যোগ করেন মিছবাহুর রহমান চৌধুরী।

এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনকে না জানিয়ে প্রোগ্রাম করার কারণে মাহফিল আয়োজকসহ কয়েকজন বক্তার নামে মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাওলানা মামুনুল হক বক্তব্যের মাধ্যমে দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি করেছিলেন সেখানে। এবং পরিকল্পিতভাবে তার নাম গোপন রাখা হয়েছিল। এছাড়াও মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীও এই মামলার আসামি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরো জানান, মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও নাম নাজানা আরো বেশ কয়েকজনের কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে মাওলানা মামুনুল হকের কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব নয়নি।