মাদরাসা থেকে বহিষ্কার বিয়ানীবাজারের সেই কিশোর অপরাধী

প্রকাশিত:সোমবার, ২১ ডিসে ২০২০ ০৬:১২

মাদরাসা থেকে বহিষ্কার বিয়ানীবাজারের সেই কিশোর অপরাধী

বিয়ানীবাজারের তিলপারা ইউনিয়নের দাসউরা সিনিয়র আলিম মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর অপরাধী রেদওয়ান দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। তার নানা অপকর্মে এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। গত নভেম্বর মাসে সে একই এলাকার তৃতীয় শ্রেণির বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলছাত্র আহবাবুর রহমানকে কিডন্যাপ করে প্রাণনাশের চেষ্টা করে। এবার মাদরাসা থেকে তার সঙ্গে দেশীয় অস্ত্র রাখা, ইভটিজিং ও শিক্ষকদের সঙ্গে বেয়াদবীসহ নানা অভিযোগে রেদওয়ানকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, রেদওয়ান সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখার সময় থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রায়ই ধারালো ছুরি দিয়ে সহপাঠিদের আক্রমণ করত। তার নির্যাতনের শিকার হতেন মাদরাসার ছাত্রীরা। এমনকি এসব ঘটনায় শিক্ষকরা কথা বললে সে তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মাদরাসায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। শেষ পর্যন্ত শিক্ষক ও অভিভাবকরা তাকে দেশীয় অস্ত্রসহ মাদরাসায় আটকে রাখেন। পরে এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় রেদওয়ানকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, রেদওয়ানের মারমুখি আচরণের কারণে গত বছর তাকে মাদরাসা থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়া হয়। কিন্তু আশপাশ স্কুল তাকে ভর্তি করেনি। এরপর ফৈয়াজুর রহমান তার পুত্রকে নিয়ে ফের মাদরাসায় যান এবং ভবিষ্যতে বিরূপ আচরণ করবে না মর্মে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। পরে রেদওয়ানকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি করা হলেও তার অপরাধ কমেনি, বরং বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ৯ নভেম্বর কিশোর গ্যাং গ্যাংস্টার রেদওয়ান প্রতিবেশি আহবাবুর রহমানের (৯) মুখে কাপড়গুজা দিয়ে তিলপারা ইউপির পরিত্যাক্ত কক্ষে হাত-পা বেঁধে খড়ের নীচে চাপা দেয় এবং নির্যাতন করে। এ ঘটনায় রেদওয়ানকে আসামি করে ভিকটিমের চাচা আনছার হোসেন থানায় মামলা করেন। মামলা নং ১০, তারিখ ১৩/১১/২০।

অপরদিকে, ১৪ নভেম্বর শিক্ষক স্টাফ কাউন্সিলের সভায় রেদওয়ানকে মাদরাসা থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এর পরদিন ম্যানেজিং কমিটির সভায় রেদওয়ানকে মাদ্রাসা থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়।

রোববার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল ইসলাম ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম মেরাব বহিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করেন। অধ্যক্ষ বদরুল ইসলাম বলেন, কিশোর অপরাধী রেদওয়ানের ধারালো ছুরি এখনো মাদরাসায় সংরক্ষিত রয়েছে।