সিলেট সিটির অপরিকল্পিত উন্নয়নের বলি কবি আব্দুল বাসিত!

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসে ২০২০ ০৯:১২

সিলেট সিটির অপরিকল্পিত উন্নয়নের বলি কবি আব্দুল বাসিত!

সিলেট অফিস।। সিলেট শহরজুড়ে চলছে ভাঙাগড়ার খেলা। সড়কজুড়ে খোঁড়াখুড়ি, ড্রেন ভাঙা-নির্মাণ, নির্মাণের পর আবার ভাঙা- এসব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে উন্নয়নের নামে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। সড়কজুড়ে নির্মাণসামগ্রী, কাদা, ধুলো, যানজট- এসবের দুর্ভোগ যেন শেষ হওয়ার নয়। এবার সিলেট সিটি করপোরেশনের এই অপরিকল্পিত উন্নয়নের বলি হয়ে প্রাণ হারালেন একজন।

জানা যায়, নগরজুড়ে চলমান সিলেট সিটি করপোরেশনের এসব নির্মাণকাজে কোনজায়গায়ই মানা হচ্ছে না নির্মাণবিধি। ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে নির্মাণ কাজ। সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে খোলা রেখে দেওয়া হচ্ছে ড্রেন। খোলা ড্রেনে রডসহ নির্মাণসামগ্রীও ফেলে রাখা হচ্ছে এবড়ো-থেবড়ো। সড়কে ফেলে রাখা হচ্ছে খোলা রড। এতে ঘটছে দুর্ঘটনা। এরকমই একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যান কবি, ছড়াকার ও শিক্ষক আব্দুল বাসিত মোহাম্মদ। সিলেট সিটি করপোরেশনের ‘উন্নয়নের ড্রেনে’ পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন সিলেটের সাহিতাঙ্গণের এই প্রিয় মুখ।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর আম্বরখানার হুরায়রা ম্যানশনের সামনে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে কবি আব্দুল বাসিত মোহাম্মদের পেটের মধ্যে রড ঢুকে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুদিন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

আব্দুল বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যুর জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনকে (সিসিক) দায়ী করে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, অবশ্যই এই মৃত্যুর দায় সিলেট সিটি করপোরেশনকে নিতে হবে। মহানগরের উন্নয়ন কাজে বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বেষ্টনি না রেখে এমন উন্মুক্ত ড্রেনের হোল ফেলে রাখা হয়েছে। যা কোনভাবেই শতসহস্র কোটি টাকার কাজের মানদণ্ডের উপযোগী নয়। ইতিপূর্বে নয়াসড়ক মসজিদের মিনার ভাঙার সময়ে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না রেখে অদক্ষ হাতে মিনার ভাঙার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় দেখা গেছে সেখানে কী ঘটেছিল।

তিনি বলেন, সেই দুর্ঘটনায় সৌভাগ্যবশত: প্রাণহানি ঘটেনি কিন্তু কয়েকজন আহত হয়েছিল। যারা আহত হয়েছিল সিলেট সিটি করপোরেশন তাদের কোন ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল কি না জানি না। কিন্তু কবি আব্দুল বাসিত মোহাম্মদের পরিবারকে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে নগরীর যে সকল স্থানে এমন উন্মুক্ত বিপদজনক ড্রেন হোল আছে সেখানে নিরাপত্তা বেষ্টনি দেয়া হোক। পাশাপাশি এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ঠিকাদার, সুপারভাইজারসহ দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, এই ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা সবসময় ঠিকাদারদের নির্মাণসামগ্রী নিরাপদে রাখা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে কাজ করতে বলি।

তিনি বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পেয়ে আমরা নগরীর সব উন্নয়ন কাজ তদারকিতে নেমেছি। যেখানে এভাবে বিপজ্জনকভাবে রড রয়েছে তা ঢাকার ব্যবস্থা করেছি। দ্রুত সবগুলো ঢালাই করে ঢেকে দেয়া হবে।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ