সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ- ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসে ২০২০ ০৫:১২

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ- ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল

সুরমাভিউ:-  সিলেটের আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় দুই মাস পর প্রধান আসামি সাইফুরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মো. আবুল কাশেমের আদালতে এ চার্জশিট প্রদান করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

চার্জশিটে মামলার ৬ আসামিকে সরাসরি ধর্ষণে জড়িত এবং ২ জন সহায়তা করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহপরাণ (রহ.) থানার অভিযোগপত্র নং-১৮, তাং- ০২/১২/২০২০। থানায় ধর্ষণ মামলা নং- ২১. তাং-২৬/০৯/২০২০ ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন/২০০৩) এর ৯(৩) তদসহ পেনাল কোড এর ৩৪২/৩২৩/৩৭৯/৩৮৫/৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল।
ধর্ষণে সরাসরি অভিযুক্তরা হলেন- সাইফুর রহমান, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, মো. রবিউল হাসান ও মাহফুজুর রহমান মাসুম।
অন্যদিকে ধর্ষণে সহযোগিতার জন্য আসামি করা হয়েছে মো. আইনুদ্দিন ও মিসবাউল ইসলাম রাজনকে।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) সুহেল রেজা জানান, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ওই তরুণীর স্বামী শাহপরান থানায় মামলা করেন। ওই রাতেই ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের (২৮) কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে একটি পাইপগান, ৪টি রামদা, ২টি চাকু উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহপরান থানায় অস্ত্র আইনে মামলা (নং-২২/২৬/০৯/২০) করা হয়।

তিনি আরো জানান,আরো জানান, মামলার তদন্তে ওই অবৈধ অস্ত্রগুলোর সাথে সাইফুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান রনির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে আরো একটি চার্জশিট (শাহপরান থানায় অভিযোগপত্র নং-১৬৪/২২/১১/২০) দাখিল করা হয়েছে।
এসময় তিনি জানান ঐই মামলায় ৪৮ জনের সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছে।

এদিকে, গণধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ৮ আসামি হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের বাসিন্দা ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এমসি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম (২৫), কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), মিসবাউল ইসলাম রাজন ও আইনুদ্দিন আইনুল। এদের মধ্যে রাজন ও আইনুদ্দিন ছাড়া অপর ছয়জন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তদন্তকালে এ দুজনের সংশ্লিষ্টতাও পায় পুলিশ।

এই ৮ আসামির সবাই বর্তমানে কারাগারে আছেন। তাদের ডিএনএ পরীক্ষায়ও ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। আসামিদের প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

উল্লেখ্য গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার পর র‍্যাব ও সিলেট জেলা পুলিশের অভিযানে আটক ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার সকলেই ৫ দিন করে রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।
এর আগে গত আগে ১ ও ৩ অক্টোবর আট আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেই ডিএনএ নমুনার প্রতিবেদন রোববার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্যের কাছে পৌঁছায়। তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেন এসএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এতে ৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ মেলে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ