অস্ত্র মামলার চার্জশিটেও অভিযুক্ত সাইফুর – রনি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসে ২০২০ ০৮:১২

অস্ত্র মামলার চার্জশিটেও অভিযুক্ত সাইফুর – রনি

সুরমাভিউ।। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। একইদিনে অস্ত্র উদ্ধারের আরেকটি মামলায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এতে  ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও আরেক আসামি শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে সিলেট মহানগর মূখ্য হাকিম আবুল কাশেমের আদাণলতে এই দুই মামলার চার্জশিট প্রদান করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ধর্ষণের খবর পেয়ে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে যায় পুলিশ। এসময় ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের কক্ষে অভিযান চালিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরণের দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে পরদিন অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ধর্ষণ মামলার সাথে অস্ত্র মামলারও অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রদানের কথা জানায় পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এর কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন  করা হয়।

এতে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) সুহেল রেজা জানান, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ওই তরুণীর স্বামী শাহপরান থানায় মামলা করেন। ওই রাতেই ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের (২৮) কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে একটি পাইপগান, ৪টি রামদা, ২টি চাকু উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহপরান থানায় অস্ত্র আইনে মামলা (নং-২২/২৬/০৯/২০) করা হয়।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, মামলার তদন্তে ওই অবৈধ অস্ত্রগুলোর সাথে সাইফুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান রনির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (শাহপরান থানায় অভিযোগপত্র নং-১৬৪/২২/১১/২০) দাখিল করা হয়েছে।

এদিকে ধর্ষণ মামলার চার্জিশেট ৮ জনেক অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের বাসিন্দা ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এমসি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম (২৫), কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), মিসবাউল ইসলাম রাজন ও আইনুদ্দিন আইনুল। এদের মধ্যে রাজন ও আইনুদ্দিন ছাড়া অপর ছয়জন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তদন্তকালে এ দুজনের সংশ্লিষ্টতাও পায় পুলিশ।

অভিযোগপত্রে সরাসরি ধর্ষণে জড়িত হিসেবে নাম এসেছে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম রাজনের।

ধর্ষণে সহায়তা করেন রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম।

এই ৮ আসামির সবাই বর্তমানে কারাগারে আছেন। তাদের মধ্যে সরাসরি ধর্ষণে যুক্ত থাকা ৬ জনের ডিএনএ পরীক্ষায়ও ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। আসামিদের প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।