সাংসদ নিক্সনের স্ত্রী মুনতারিন চৌধুরীর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু

প্রকাশিত:বুধবার, ০২ ডিসে ২০২০ ০৯:১২

সাংসদ নিক্সনের স্ত্রী মুনতারিন চৌধুরীর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু

পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গতকাল রাত সাড়ে আটটায় রাজধানীর গুলশান ২-এর ৭৬ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাসার চারতলার বারান্দা থেকে পিছলে নিচে পড়ে যান মুনতারিন। বাইরে তখন ঝড় হচ্ছিল। পড়ে যাওয়ার সময় পেছনে ছিল তাঁর একমাত্র মেয়ে এবং বাসার গৃহকর্মী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে পাশের ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৯টা ৫১ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিত্সকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাংসদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে মুনতারিন পাঁচতলা বাসভবনের ছাদ থেকে লাফ দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৯টা ৫১ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে সাংসদের সহকারী একান্ত সচিব মো. কাওসার হোসেন প্রথম আলোকে জানান, সাংসদের স্ত্রী মুনতারিন চৌধুরী গতকাল রাতে হঠাত্ হূদরোগে আক্রান্ত হন। দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কাওসার হোসেন জানান, মুনতারিন চৌধুরীর নয় বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। সে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে।

মুনতারিনের মৃত্যুর খবরে গুলশানে নিক্সন চৌধুরীর বাড়িতে এসেছেন তাঁর নির্বাচনী এলাকার নেতা-কর্মীরা। তাঁরা সাংবাদিকদের জানান, হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে সাংসদের স্ত্রী মারা গেছেন বলে জেনেছেন তাঁরা। নিক্সন চৌধুরী ও মুনতারিনের দাম্পত্য জীবন ১৮ বছরের। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় নিক্সনের সঙ্গে মুনতারিনের বিয়ে হয়।

নিক্সন চৌধুরীর স্ত্রীর মৃত্যু সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কী কারণে মুনতারিনের মৃত্যু হয়েছে, তা জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের পর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশের নির্দেশনা ছাড়া এই মৃতদেহ হস্তান্তর করা হবে না।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, সাংসদ নিক্সন চৌধুরীর স্ত্রীর মৃত্যুর ব্যাপারে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেননি।

নিক্সন চৌধুরী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় বোনের নাতি। সে হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাইয়ের ছেলে। নিক্সন চৌধুরী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় বলে প্রচার করেন। তবে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মাসেতু দুর্নীতির সঙ্গে যাদের নাম জড়িত, তাঁরা তাঁর আত্মীয় নন।