করোনার উৎস ভারত-বাংলাদেশ, দাবি চীনের!

প্রকাশিত:রবিবার, ২৯ নভে ২০২০ ০৮:১১

করোনার উৎস ভারত-বাংলাদেশ, দাবি চীনের!

নিজেদের দোষ ঢাকতে এবার বাংলাদেশ ও ভারতের দিকে আঙ্গুল তুলেছে চীন। সম্প্রতি এক গবেষণার বরাত দিয়ে চীন দাবি করছে, করোনার উৎস চীন নয়, বরং ভারত বা বাংলাদেশ। কোন দেশ থেকে করোনার উৎপত্তি হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে না জানালেও দেশটির সায়েন্স অ্যাকাডেমি প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এমনটি দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানচেটে গবেষণাটি প্রকাশ করেছে এই চীনের গবেষকেরা। অবশ্য এই গবেষণা পত্রটি ত্রুটিপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন অধিকাংশ বিশেজ্ঞরা। তাদের মতে ইচ্ছাকৃতভাবে এখানে বেশ কিছু বিষয় এড়িয়ে একটি বিতর্কিত বিষয়কে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।

গবেষণাটিতে বিজ্ঞানীরা দাবি করেন যে, গত বছর ভারত-বাংলাদেশের এই অঞ্চলে তীব্র তাপদাহের সময় মানুষ ও বন্যপ্রাণীরা একই উৎস থেকে পানিপানের ফলে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।আর তাদের কাছে এ বিষয়টির প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলেন, পানির অভাবে বানরের মতো বন্যপ্রাণীরা একে অপরের সঙ্গে ভয়াবহ লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছিল এবং অবশ্যই এটি মানুষ-বন্যপ্রাণী সংস্পর্শের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছিল।

চীনা গবেষক দলটি করোনা ভাইরাসের উৎস খুঁজতে ফাইলোজেনেটিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তাদের মতে, সবচেয়ে কম রূপান্তরিত রূপটাই ভাইরাসের আসল রূপ হতে পারে। আর ভারত এবং বাংলাদেশ করোনার সবচেয়ে কম রূপান্তর ঘটেছে। এ থেকে চীনা গবেষকরা দাবি করছেন যে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ উহানে হয়নি, বরং ভারত এবং বাংলাদেশের মতো জায়গাগুলোতে এর প্রথম সংক্রমণ হয়েছিল। ভারত-বাংলাদেশের পাশাপাশি করোনার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, সার্বিয়া, ইতালি, গ্রিস, যুক্তরাষ্ট্র এবং চেক রিপাবলিকেরও নাম বলেছেন চীনের ওই গবেষকরা।

তবে চীনাদের এ দাবির সঙ্গে একমত নন অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে গ্লাসগো ইউনিভার্সিটির ভাইরাল জিনোমিক্স অ্যান্ড বায়োইনফরম্যাটিকস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডেভিড রবার্টসন বলেন, চীনা বিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্রটি খুবই ত্রুটিপূর্ণ। লেখকরা মহামারির বিস্তৃতি সংক্রান্ত উপাত্তগুলো এড়িয়ে গেছেন, যাতে চীনে ভাইরাসের উত্থান এবং সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়া স্পষ্ট দেখা যায়। চীনা বিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্রটি সার্স-কভ-২ সম্পর্কে বোঝার বিষয়ে নতুন কিছুই যোগ করেনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ