বঙ্গবন্ধুর প্রণীত সংবিধান এবং শেখ হাসিনার প্রবর্তিতআইনে উপজেলা পরিষদ চালাতে হবে – হারুন-অর-রশিদ হাওলাদার

প্রকাশিত:সোমবার, ২৩ নভে ২০২০ ০৭:১১

বঙ্গবন্ধুর প্রণীত সংবিধান এবং শেখ হাসিনার প্রবর্তিতআইনে উপজেলা পরিষদ চালাতে হবে – হারুন-অর-রশিদ হাওলাদার

সুরমাভিউ:-  বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, কৃষকলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ হাওলাদার বলেছেন- সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শুধু নন, সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ জনপ্রতিনিধি ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- অবিলম্বে জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। আমি বাংলার মানুষের জন্য শাসনতন্ত্র দিতে চাই। জনগণের ক্ষমতা, জবাবদিহি শাসন ব্যবস্থা, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় নিজের জীবন দিয়ে গেছেন। কিন্তু আজও সেই জবাবদিহি শাসন ব্যবস্থা, জনগণের ক্ষমতায়ন, জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করণে এখনো সাংবিধানিক নির্দেশনা পূরণ হয়নি। বঙ্গবন্ধু সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে পরিস্কারভাবে লিখে দিয়ে গেছেন, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জনপ্রতিনিধিদেও সমন্বয়ে হবে শাসন ব্যবস্থা। কিন্তু আজ চলছে জনপ্রতিনিধি বিহিন জনপ্রশাসন। কতিপয় কর্মকর্তার সংবিধান ও আইন বিরোধী মানসিকতার কারণে উপজেলা পরিষদসহ সকল জনপ্রতিনিধি মর্যাদা নিয়ে শাসন ব্যবস্থার দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এমন দুঃসাহস কেউ দেখাতে পারতো না। সংবিধানের যে নির্দেশনা রয়েছে সেই আলোকে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ আইন প্রনয়ন করে ২০০৯ সালে পুনঃপ্রবর্তন করেছেন। সেই আইনের ৪ এর ধারায় পরিস্কারভাবে বলা আছে, সংবিধানের ৫৯ এবং ১৫২ অনুচ্ছেদের নির্দেশনার আলোকে উপজেলা পরিষদকে একটি প্রশাসনিক একঅংশ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সেই সাংবিধানিক আইন অমান্য করছেন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিরা। আজ উপজেলা পরিষদের বদলে লেখা হয় উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা পরিষদেও সচিব হিসেবে যাদেও দায়িত্ব পালনের কথা, আজ তারা কর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ। আত্মসম্মানবোধ নিয়ে আজ উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন থেকে বঞ্চিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশন বিচারবিভাগের শরনাপন্ন হতে চলেছে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের দাবি একটাই, বঙ্গবন্ধুর সংবিধান এবং শেখ হাসিনার প্রবর্তিত আইনে উপজেলা পরিষদ চালাতে হবে। অন্যথায়, সর্বোচ্চ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সাংবিধানিক অধিকার আদায় করা হবে।

 

তিনি সোমবার সকালে সিলেট জেলা পরিষদ হলরুমে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে আলোচনা সভা ও বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

 

সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদের সভাপতিত্বে, ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল আহমদের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খান বীরু।
তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন- ৪৯২টি উপজেলা পরিষদের ১৪৭৬ জন উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানরা আজ ভালো নেই। সাংবিধানিক আইন অমান্যের মাধ্যমে আজ তাদের মর্যাদা খর্ব করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের ইউএনওরা ১৪৩টি কমিটির সভাপতি থাকেন। আর উপজেলা চেয়ারম্যানরা থাকেন ৪/৫টিতে। অথচ সাংবিধানিক নিয়মে এটি উপজেলা চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানদের থাকার কথা ছিলো। আজ মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে পরিপত্র পাঠানো হয়। যা সংবিধান পরিপন্থি। উপজেলা চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে পাশ কাটিয়ে করা হচ্ছে বিভিন্ন কমিটি। ১৭টি বিভাগ চালানো হচ্ছে অনেকটা পাশ কাটিয়ে। সেটি আর চলতে দেওয়া যায় না। সাংবিধানিক এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা সুপ্রিমকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করবো।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নারীনেত্রী ও গাজীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রীনা পারভীন, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও রাজবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট এমদাদুল হক, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, ময়মনসিংহ বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল করিম রাসেল।

 

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান, সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহিদ, হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিকুল আলম আজাদ, সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ, সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুর রহমান মফুর, মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোয়েব আহমদ, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট গবিন্দ দাস, সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিপা সিনহা।

 

সম্মেলনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া। গীতা পাঠ করেন তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী (বাবুল)। আলোচনা সভা ও বিভাগীয় সম্মেলনে সিলেট বিভাগের উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করা হয়।

 

সম্মেলনে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় সভাপতি নির্বাচিত হন সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের ৩য় বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ