বালাগঞ্জে ৩০ বছর ধরে সরকারী গোপাট দখল

প্রকাশিত:বুধবার, ১৮ নভে ২০২০ ০৪:১১

বালাগঞ্জে ৩০ বছর ধরে সরকারী গোপাট দখল

সিলেট অফিস।।সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের শিওরখাল মৌজার বরকতপুর গ্রামে ৩০ বছর ধরে সরকারি গোপাট দখলের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, বরকতপুর গ্রামের মৃত এমদাদ উল্লাহের ছেলে আশরাফ আলী, ছোয়াব আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী গুলসের সরকারি গোপাট দখল করে কবরস্থান, গরু রাখার গোয়ালঘর, আধাপাকা টিনসেট এর বসত ঘর, দেয়াল প্রাচীর নির্মাণ করে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন।

সরকারি ১ নং খতিয়ানের ৬৭৮ নাম্বার দাগে ০.০১৬০ একর ভূমির সাথে একত্রিত করে আংশিক ভূমি দখল করে রেখেছেন প্রভাবশালী আশরাফ গং এবং মোহাম্মদ আলী গুলসের গংরা।

একই গ্রামের খরিদা সূত্রে তছির আলী গং তাদের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় আশরাফ আলী ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেন যে তছির আলী সরকারি গোপাট দখল করে বাউন্ডারি দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

এই অভিযোগ পেয়ে সুলতানপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মোঃ আক্তার হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন করেন।এবং তিনি বিজ্ঞসার্ভেয়ার দ্বারা দাগের অবস্থান ও পরিমাণক্রমে সরকারি ভূমির সীমানা নির্ধারণক্রমে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

আক্তার হোসেনের আবেদনের ভিত্তিতে উপজেলা ভূমি অফিসের পক্ষে সার্ভেয়ার মোঃ ওমর ফারুক উল্লেখিত ভুমি পরিদর্শন করে সহকারী কমিশনার বরাবর স্কেচ ম্যাপ সহ দাখিল করেন।

এই আবেদনের উপর তছির আলীর পিতা রাশিদ আলীর পক্ষে আপিল পেশ করা হয়।এ ব্যাপারে রাজস্ব মিস আপীল নং অক-৩৫/২০১৯ এর আরজির উপর বিজ্ঞ অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার রাজস্ব সিলেট আদালতের কাছে সিলেট জেলা প্রশাসক একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এই প্রতিবেদন দাখিলের জবাবদিহি করতে গিয়ে তছির আলীর পুত্র গিয়াস মিয়া জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন যে সঠিক স্বার্ভে এবং সীমানা নির্ধারণ করে দেয়ার জন্য।

গিয়াস উদ্দিন আবেদনের স্বারক নং ০৫.৪৬.৯১০০.০০৮.৩৬০.০২/২০১৭-১৮.২০.৭৩৩ তারিখ ০৮ অক্টোবর ২০২০ ইংরেজি।

তার এই আবেদনের বিত্তিতে সিলেট জেলা প্রশাসক রাজস্ব শাখার সার্ভেয়ার মোঃ দেলোয়ার হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন এবং সার্ভে করে দেখতে পান বাদী আশরাফ আলী গং ১ নম্বর খতিয়ানের ৬৭৮ নম্বর দাগের ০.০০৯০ একর ভুমি তাদের নিজ ভূমির সাথে একত্রিত করে সীমান প্রাচীর নির্মাণ করে গোরস্তান হিসেবে এবং ৬৮৬ নম্বর দাগে ০.০১৬০ একর ভূমি নিজ ভূমির সাথে একত্রিত করে আংশিক ভূমিতে গার্ড ওয়াল ও ময়লা ফেলার স্তুপ এবং আধাপাকা টিন সেডের গোয়াল ঘর নির্মাণ করে আশরাফ আলী এবং মোহাম্মদ আলী গুলসের গংরা অবৈধভাবে ভোগ দখল করে রেখেছেন।

অবৈধ ভাবে সরকারি গোপাট দখলের বিষয়ে সত্যতা জানতে আশরাফ আলী বলেন কবরস্থানে গরু ছাগল যাতে ঢুকতে না পারে সেজন্য আমরা গার্ড ওয়াল দিয়েছি।এবং গোয়ালঘর আমার চাচাত ভাই মোঃ গুলসের আলী নির্মাণ করেছে,আমাদের কেউ আপত্তি দেয় নাই।সরকারের পক্ষ থেকে আপত্তি আসলে এগুলো আমরা অন্যত্র সরিয়ে নিব।

অভিযোগকারী গিয়াস উদ্দিন বলেন আমরা এলাকার মন্তাজ উল্লার ছেলে বশির আলীর কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে তার দেখানো সীমানায় বাড়ির চতুর্দিকে বাউন্ডারি নির্মাণ করেছি।বাউন্ডারি আঁকাবাঁকা না করে আমাদের কিছু জায়গা বাউন্ডারির বাহিরে এবং সরকারি কিছু জায়গা বাউন্ডারির ভিতরে ঢুকে যাওয়ায় আশরাফ আলী ও মোহাম্মদ গুলসের আলী অপপ্রচার করেছেন আমরা নাকি পানি নিষ্কাশন এর রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি।প্রকৃত পক্ষে পানি যাওয়ার জন্য অনেক বড় ছড়া অবশিষ্ট আছে।শুধু তাই নয় আশরাফ আলীর বড় ভাই আনোয়ার আলী নিজে আমাদের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।

প্রকৃত পক্ষে উনারা দুজন(আশরাফ আলী ও মোহাম্মদ আলী গুলসের) মিলে গোয়ালঘর ও কবরস্থান এবং ময়লা ফেলার স্তুপ নির্মাণ এর মাধ্যমে সরকারী গোপাট দখল করে আসছেন। এলাকাবাসীর সার্থে এগুলো দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি।