গোবিন্দগঞ্জ গোল চত্ত্বরকে বীর মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বর নামকরণ করার দাবী

প্রকাশিত:সোমবার, ০৯ নভে ২০২০ ০৩:১১

ছাতক প্রতিনিধি:-  ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে নির্মাণাধীন গোল চত্ত্বরকে মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বর নামকরণ করার দাবী ক্রমেই জোড়ালো হয়ে উঠছে।
ছাতক উপজেলার সর্বস্থরের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধারা এখন সম্বেলিতভাবে এ দাবীতে সোচ্ছার হয়ে উঠেছেন।
ছাতকসহ  সুনামগঞ্জ জেলার প্রবেশদ্বার গোবিন্দগঞ্জ গোল চত্ত্বরকে মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বর নামকরনের দাবীতে ইমিধ্যেই মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বরাবরে পৃথক লিখিত আবেদন দেয়া হয়েছে।
৭ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নুরুল মুমিন এবং ছাতক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আনোয়ার রহমান তোতা মিয়া স্বাক্ষরিত পৃথক লিখিত আবেদন দেয়া হয়।
এ ছাড়া সুনামগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচিত এমপি মুহিবুর রহমান মানিক এবং সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ বরাবরে পৃথক আবেদন দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসককে দেয়া আবেদনে, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার জন্য নির্দেশ দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। একই দাবীতে ১৫ এপ্রিল সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে দেয়া আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৫ অক্টোবর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে বিভাগীয় সিনিয়র সহকারী কমিশনার ফাতেমা-তুজ-জোহরা নির্দেশক্রমে জেলা প্রশাসক বরাবরে পত্র প্রেরন করেন।
এদিকে ২৫ অক্টোবর টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদ ও জাদুঘর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, রাস্তা, ব্রীজসহ সব ধরনের সরকারী স্থাপনা যা সরকারী টাকায় নির্মিত হচ্ছে, তার প্রত্যেকটি বীর মুক্তিযোদ্ধদের নামে নামকরণ করা সরকারী সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এসব নামকরণ প্রশাসন দিয়ে হবে না, বীর মুক্তিযোদ্ধারা উদ্যোগ নিয়ে করে ফেলতে হবে। নামকরনের ক্ষেত্রে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামও বাদ যাবে না। প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, জীবন বাজী রেখে এ দেশ শত্রুমুক্ত করেছে মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের রক্তের বিনিময়ে আজ স্বাধীন দেশ হয়েছে বলেই আপনার প্রশাসনিক চেয়ারে বসতে পারছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের ভালো কাজে বাধা দিয়ে তাদের ক্ষেপিয়ে তুললে এর পরিনাম ভালো হবে না। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র জমা দিয়েছেন, কিন্থু ট্রেনিং জমা দেননি।
গোবিন্দগঞ্জ গোল চত্ত্বরকে মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বর নামকরনের দাবীর পেছনে যৌক্তিক পর্যাপ্ত কারন তুলে ধরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, মুক্তিযুদ্ধে ছাতক তথা সুনামগঞ্জের রয়েছে এক গৌরাবজ্জ্বল ইতিহাস। দেশ স্বাধীন হওয়ার ১০দিন আগেই অর্থাৎ ৬ ডিসেম্বর ছাতক ও সুনামগঞ্জ শুত্রুমুক্ত করতে সকআষম হয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। বৃহত্তর ছাতক অঞ্চলেই রয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫ নং সেক্টরের হেড কোয়াটার। স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত সীমান্ত অঞ্চল মেঘালয়ের পাদদেশ বাঁশতলা-হকনগরে গড়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষনে ছাতকের মাধবপুরে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন সতেরশিখা স্মৃতি সৌধ। এ অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে মুহিবুর রহমান মানিক এমপি এসব দর্শনীয় কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। ছাতকসহ জেলার ১১টি উপজেলার একমাত্র প্রবেশদ্বার হচ্ছ গোবিন্দগঞ্জ। স্বাধীনতার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে আরো স্মৃতিময় করে রাখার জন্য গোবিন্দগঞ্জে নির্মাণাধিণ গোল চত্ত্বরকে মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বর নামকরন করা এখন সময়ের দাবী বলে অত্র অঞ্চলের বীর মুক্তিযোদ্ধারা মনে করেন।
ছাতক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আনোয়ার রহমান তোতা মিয়া জানান, বর্তমান উপজেলা পরিষদের নির্বাচন পরবর্তী সমন্বয় সভায় এম মুহিবুর রহমান মানিকের উপস্থিতিতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাহাদ লাহিন গোবিন্দঞ্জে গোল চত্ত্বরকে মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বর নামকরনের দাবী তুলেছিলেন জোড়ালোভাবে। কমান্ডারের মতে, যার হাত ধরে ছাতক-দেয়ারার অভুতপূর্ব উন্নয়ন শহর থেকে পল্লী-গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে, যাকে উন্নয়নের ম্যাজিকম্যান বলে এ অঞ্চলের মানুষ মনে করে, সেই কৃতি পুরুষ মুহিবুর রহমান মানিক এমপি’র হাত ধরেই দেশের সূর্য্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রানের দাবী গোবিন্দগঞ্জ গোল চত্ত্বর মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বর নামকরন বাস্তবায়ন হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ